নিজের জমি ফেরত চেয়ে বিশ্বভারতীকে চিঠি দিলেন বর্ষীয়ান শিল্পী পূর্ণদাস বাউল। ওই জমিতে বাউলশিল্পীর একটি সংগ্রহশালা গড়তে চান তাঁর ছেলে। একই সঙ্গে ইলামবাজার ব্লকের কামারপাড়া এলাকায় তাঁর জমি ফেরানোরও আর্জি জানিয়েছেন শিল্পী। গত মঙ্গলবার সিউড়ির জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়। বুধবার দুপুরে বোলপুরের একটি সরকারি গেস্টহাউসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন পূর্ণদাস বাউল এবং তাঁর পুত্র দিব্যেন্দু দাস বাউল। বিশ্বভারতীর উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের কাছে ই-মেলে লিখিত আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। এই ব্যাপারে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, আবেদনপত্র পেলে তারপর বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বিচার করে দেখবে।
শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস লাগোয়া ভুবনডাঙায় একটি আশ্রম-সহ আনুমানিক আড়াই থেকে তিন বিঘা জমি ছিল বলে পূর্ণদাস বাউল দাবিবা করেছেন। তিনি জানান, ২০০৮ সালের জুলাই থেকে নাকি ওই জমি বিশ্বভারতী নিজেদের বলে দাবি করে মামলা করে। পরে বসতবাড়ি ও মন্দির-সহ জমিটি বিশ্বভারতী নিজেদের বলে দাবি করে। জমিটি দখল করা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। বিশ্বভারতীর তরফে সেটি সিল করে দেওয়া হয়। আশ্রমের ভিতরে তিনি একটি লোকনাথ মন্দির তৈরি করেছিলেন। প্রায় ১৮ বছর সেই মন্দির বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে থাকা কয়েকটি বৈষ্ণব সমাধিতেও নিয়মিত পূজার্চনা হচ্ছে না বলে দাবি তাঁর। এদিন আবেদনপত্রে মন্দিরের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান স্বনামখ্যাত বাউল সম্রাট পূর্ণদাস। তাঁর পুত্র দিব্যেন্দুবাবু বলেন, ওই জায়গায় আমরা একটি বাউল সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে চাই। সেখানে বাবার পদ্মশ্রী-সহ দেশ-বিদেশের বহু পুরস্কার, বাউল বিষয়ক কাজকর্ম সংরক্ষণ করে রাখা হবে। জায়গাটি যাতে ফিরে পাই সেজন্য বিশ্বভারতীর কাছে আবেদন করছি। অন্যদিকে তাঁদের ইলামবাজারের কামারপাড়া মৌজার জমিটি ফেরানোর দাবিও দীর্ঘদিনের। ১৯৭৭ সালে রাস্তার ধারে প্রায় চার বিঘা জমি কেনার কথা আগেই জানিয়েছিলেন পূর্ণদাস। তাঁর অভিযোগ, ২০০৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে ওই জমি জবরদখল হয়ে যায়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রশাসনের উদ্যোগে জমির মাপজোখ শুরু হয়। তবে সেই জমি তাঁরা এখনও ফেরত পাননি বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, রাজ্যে পালাবদলের পর জেলাশাসকের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। পূর্ণদাসবাবু বলেন, জীবনের শেষ পর্বে এসে ওই জমি ফিরে পেতে চাই। ইলামবাজারের জমিটি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। এ ব্যাপারে জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, উনি একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
















