এই প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে কেন্দ্রের ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে শামিল হল সরকার। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে সোমবার কলকাতার রাজপথে আয়োজিত তেরঙ্গা যাত্রার নেতৃত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পা মেলান রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য, বিধায়ক-সহ হাজার হাজার মানুষ। শোভাযাত্রা শেষে সরকারি উদ্যোগে রাখিবন্ধন উৎসব পালনের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

এ দিন গোষ্ঠ পাল সরণি থেকে শুরু হয়ে তেরঙ্গা যাত্রা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের নর্থ  গেট পর্যন্ত যায়। মিছিলের সামনেই জাতীয় পতাকা হাতে হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), অর্জুন সিং, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chatterjee), দীপক বর্মণ, রত্না দেবনাথ, রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh), কৌস্তভ বাগচী-সহ একাধিক মন্ত্রী ও বিধায়ক। ‘প্রতিটি বাড়িতে তেরঙ্গা’ লেখা ব্যানারের পিছনে জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। স্বাধীনতা দিবসের আবহে তেরঙ্গার রঙে সেজে ওঠে মহানগরের রাজপথ।

শোভাযাত্রা শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, চলতি বছর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে সরকারি স্তরে রাখিবন্ধন উৎসব পালিত হবে। তাঁর বক্তব্য, রাখিবন্ধনের তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। এই উৎসবের মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে। রাজ্যবাসীর কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, ১৫ অগাস্ট প্রত্যেকে নিজের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিকে সফল করুন। পাশাপাশি রেড রোডে আয়োজিত সরকারি স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস (Independence Day) উপলক্ষ্যে ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ অভিযান পালন করে। অতীতে পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্তরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়নি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে কেন্দ্রের এই অভিযানে শামিল হল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, জাতীয় পতাকাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাজ্য সরকারের অংশগ্রহণ কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।