ক্ষমতায় আসতে না আসতেই তোলাবাজি রোগে আক্রান্ত বঙ্গ বিজেপি। ব্যবসায়িক থেকে শিল্পমহল— সর্বত্রই চলছে হুমকির রাজনীতি। ব্যবসায়ী হোক বা শিল্পপতি কিংবা লগ্নিকারী বিজেপি নেতাদের হপ্তা বা মাসোহারা আদায়ের ঠেলায় নাস্তানাবুদ। লাটে উঠছে ব্যবসা, লগ্নিকারিরাও পালাই-পালাই করতে শুরু করেছে তিন মাসেই। এই অভিযোগ বিরোধীপক্ষ বা সাধারণ ব্যবসায়ীদের নয়, বিজেপিরই অভিভাবক সংস্থা আরএসএসের শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘের। তারাই বঙ্গ বিজেপির একাংশ ও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিজেপির আমলে শ্রমিক নেতার উপর আক্রমণ, আন্দোলনে নামবে আরএসএস-র সংগঠনই!
পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ, তা বাংলা শিল্প সম্ভাবনাকে শেষ করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।
Sponsored

বিজেপি নেতাদের তোলাবাজি নিয়ে দল ও সরকার বিপর্যস্ত। এমনকী দলকে সাসপেন্ডের রাস্তাতেও হাঁটতে হয়েছে বিজেপির তোলাবাজ নেতাদের কাণ্ডকারখানায়। শুভেন্দুর সরকারও আশঙ্কা করেছে এভাবে দলের নেতাদের তোলাবাজি চলতে থাকলে শিল্প আসবে না, এমনকী যা আছে তাতেও লালবাতি জ্বলে যাবে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ, তা বাংলা শিল্প সম্ভাবনাকে শেষ করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ২ অগাস্ট শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক কোলাঘাটে একদল দুষ্কৃতীর হাতে বেধড়ক মার খান বিএমএসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস ভট্টাচার্য। দিনদুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয় দেবাশিসবাবুকে।
বঙ্গের গেরুয়ার শীর্ষ শ্রমিক নেতার উপর বর্বরোচিত হামলার পরও কেউ গ্রেফতার হয়নি! শুভেন্দুর পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছে সংঘের সংগঠনই। এমনকী বড়সড় আন্দোলনে নামার পরিকল্পনাও করছে তারা।
শুক্রবার রাজ্য কমিটির জরুরি বৈঠকে ভারতীয় মজদুর সংগঠন বা বিএমএস সিদ্ধান্ত নেয় অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার না করলে রাজ্য জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তারা। শুধু এই একটি ক্ষেত্রই নয়, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিকস্বার্থে কাজ করা বিএমএস নেতৃত্ব নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছে বলে অভিযোগ। গত ২৩ জুলাই পুরসভার সামনে হাওড়া জেলার বিএমএস সম্পাদক রানাপ্রতাপ সিংয়ের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালায় সমাজবিরোধীরা।
বাংলার পুলিশমন্ত্রীকে তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, শ্রমিক নেতা-কর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এখনও হনিমুন পিরিয়ড শেষ হয়নি, এখনই যদি এত অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে, এই সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from রাজ্য
View All →
দায়িত্ব কার? কৌশলী মামলায় নিজের উদ্দেশ্যসাধন কুণালের
16h ago

রক্তদানের প্রলোভন নাবালকদের, দুর্গাপুরে জালে তিন
16h ago

রুম্পার পরিবারের পাশে নেই বিজেপি-ঋতব্রত শিবির! দলনেত্রীর নির্দেশে মৃত আশাকর্মীর বাড়ি গিয়ে তোপ দাগলেন দোলা-কুণাল
18h ago

বন-জঙ্গলে ঘেরা চারপাশ, প্রাণ হাতে শ্মশানে যেতে হয় মৃতের পরিজনদের!
19h ago

রক্ত সংগ্রহ বন্ধ মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব আদালতের
19h ago







