বাম আমলে লাল, তার পর তৃণমূল জমানায় নীল-সাদা। এ বার সেই তালিকায় জুড়ল গেরুয়া। কলকাতা শহরের বেশ কয়েকটি সরকারি বাসের রং ইতিমধ্যে বদলে গেরুয়া করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে নতুন যে সমস্ত সরকারি বাস কেনা হবে, তার সব কটির রঙই হবে গেরুয়া। দেশের কথা মাথায় রেখে এবং ত্যাগের প্রতীক হিসেবেই এই রং বেছে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর ব্যাখ্যা। তবে বাসের ভোলবদল হলেও পরিষেবার মান আদৌ বদলাবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন নিত্যযাত্রীরা। 

বামফ্রন্ট সরকারের সময় রাজ্যের সরকারি বাসের গায়ে থাকত চেনা লাল রং। ২০১১ সালে পরিবর্তনের পর তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি বাস এবং সমস্ত সরকারি পরিকাঠামো মুড়ে ফেলা হয় নীল-সাদা রঙে। রাজ্যে ফের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার সরকারি বাসেও লাগল গেরুয়া ছোঁয়া। গত সপ্তাহে দেখা গিয়েছে, সোনারপুর থেকে ইকো স্পেসগামী এসি ৫৮ রুটের বাসগুলিতেও গেরুয়া রং করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগমের একটি সূত্র প্রথমে জানিয়েছিল যে বাসের রং পরিবর্তন নিয়ে সরকারিভাবে কোনও নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু মঙ্গলবার পরিবহণমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, এখন থেকে নতুন সরকারি বাসের স্থায়ী রং হবে গেরুয়াই। 

রং পরিবর্তনের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে এবং পূর্বতন দুই সরকারকে বিঁধে অর্জুন সিংহ বলেন, লাল রং বিপদের প্রতীক, আর নীল-সাদা চুরির প্রতীক। অন্য দিকে গেরুয়া হল ত্যাগের প্রতীক। আমরা রাষ্ট্রবাদী, তাই দেশের কথা ভেবে ত্যাগের প্রতীক গেরুয়া রংকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মন্ত্রী আরও একধাপ এগিয়ে রসিকতার ছলে বলেন, এখন অ্যাপল সংস্থাও গেরুয়া রঙের মোবাইল বিক্রি করছে, পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন! সেই সঙ্গে বিজেপির চেনা স্লোগান মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রামরাজ ফির আয়েগা, গেরুয়াধারী আয়েঙ্গে। 

মন্ত্রী বাসের রং পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করলেও তাতে যাঁরা নিত্য যাতায়াত করেন, তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে রাস্তায় সরকারি বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক-একটি বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এক যাত্রীর প্রশ্ন, বাসের রং গেরুয়া হলে কি আমাদের অপেক্ষার সময়সীমা কমবে? বাসকর্মীদের একটি সূত্রের খবর, শুধু বাসের সংখ্যাই নয়, চালক এবং প্রয়োজনীয় কর্মীরও তীব্র অভাব রয়েছে পরিবহণ নিগমে। ফলে রঙের পরিবর্তনের পাশাপাশি যদি সার্বিক ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন না হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।