কোথায় সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? তিনি কি অসুস্থ? নাকি তাঁকে ব্রাত্য করে দিল বিজেপি? নইলে দলের রাজ্য সভাপতির এতদিন পরে তাঁকে মনে পড়ল কেন? বিজেপি সূত্র বলছে, অভিজিতই দেখা করতে চেয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্যর সঙ্গে। তাই অভিজিতের বাড়িতে রাজ্য সভাপতি। 

 

শমীক মন দিয়ে শুনেছেন সব কথা। বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানাবেন। সোওয়া তিন মাসের নতুন সরকারের শিল্পের স্বার্থে একের পর এক পদক্ষেপ লক্ষ্য করছে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ভারতীয় এবং  সফল বাঙালি। তাঁরা চাইছেন শিল্পের প্রতিবন্ধকতা দূর হোক। আর এর জন্য দরকার ছোট ছোট অসংখ্য শিল্প। 

 

পোশাকি নাম সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও অভিজিৎ বাংলায় লগ্নি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। শুধু তাই নয় এক ঝাঁক প্রবাসী লগ্নি করতে চাইছেন, শমীককে জানালেন তমলুকের সাংসদ।  কী জানিয়েছেন অভিজিৎ?  ঘরোয়া আলোচনায় তিনি বলেন, বেশ কিছু প্রবাসী ভারতীয় এবং প্রবাসী বাঙালি চিকিৎসক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ পরিচিত, কেউ আবার নানা সূত্র ধরে তাঁর কাছে পৌঁছেছেন। বাংলার শিল্পায়নে তাঁরা অংশীদার হতে চান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই ডাকে তাঁরা সাড়া দিতে চান। চিকিৎসা ক্ষেত্র ছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও তাঁরা লগ্নিতে আগ্রহী। আগ্রহীদের মধ্যে ইউরোপ, আমেরিকা এবং লন্ডনের প্রবাসীরা রয়েছেন। এরা মনে করছেন, এটাই লগ্নির সময়। পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালিদের বাংলার প্রতি ঋণ শোধের আবেগও কাজ করছে। 

 

বাংলায় এখন চিকিৎসা ক্ষেত্র এবং তথ্য প্রযুক্তির চাহিদা তুঙ্গে। শিল্পপতিরা বলছেন, অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এবার কাজ শুরু হোক। রাজনীতির পাকেচক্রে বাংলার শিল্পায়ন যেন আর ধাক্কা না খায়। 

 

শমীক খুশি। পালটা অভিজিতও। দুজনের একে অন্যের প্রতি অন্যরকম শ্রদ্ধা আছে। শমীকের কথার গুণমুগ্ধ ভক্ত অভিজিৎ। আবার অভিজিতের স্পষ্ট কথায় কষ্ট নেই মনোভাবকে বিরাট তারিফ করেন শমীক। 

 

দেখার বিষয়, লগ্নির এই আগ্রহকে কতখানি বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনতে পারে শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্য সরকার।