শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য জুড়ে প্রচারযন্ত্র বা লাউডস্পিকার অপসারণের কাজ শুরু হলেও, তা নিয়ে রাজনীতি ও বিতর্কের পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করার যে অভিযোগ বিরোধীরা তুলছে, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নের স্পষ্ট দাবি, পরিবেশ রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশ পালনে প্রশাসন কঠোর ভাবে নিরপেক্ষ। আইন সবার জন্য সমান, এবং মন্দির হোক বা মসজিদ— নিয়ম লঙ্ঘিত হলেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। 

রাজ্য সরকারের দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শব্দবিধি অমান্য করায় রাজ্য জুড়ে মোট ৫,২৯৯টি ধর্মীয় স্থান থেকে লাউডস্পিকার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪,২০৩টি অপসারণ করা হয়েছে মসজিদ থেকে এবং ১,০৯৬টি সরানো হয়েছে মন্দির থেকে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, অপসারিত মাইকের বড় অংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় থেকে হওয়ায় এখানে একপেশে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে এই বৈষম্যের অভিযোগ ওড়াতে গিয়ে প্রশাসনিক কর্তারা জানাচ্ছেন, লাউডস্পিকার সরানোর বিষয়টি কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেখে করা হয়নি, এটি সম্পূর্ণ ডেসিবল মাত্রা এবং আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে করা হয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, ধর্মীয় উপাসনা বা আচার-অনুষ্ঠানে সরকারের কোনো বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু শব্দদূষণ রোধে হাই কোর্টের ২০২০ সালের রায় মেনে চলাই রাজ্য প্রশাসনের প্রধান আইনি দায়িত্ব। সেখানে মন্দির বা মসজিদ বলে কোনো আলাদা বিচার করা হয়নি। যে সমস্ত স্থান থেকে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বা অনুমোদন ছাড়া মাইক বাজানো হচ্ছিল, পুলিশ ও প্রশাসনিক দফতর কেবল সেগুলির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে। 

নবান্ন সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলার স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত রূপায়ণ করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পাওয়া গিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য, কেবল উপাসনালয় নয়, আগামী দিনে বিভিন্ন সামাজিক উৎসব বা অনুষ্ঠানেও শব্দবিধি অমান্য করে সাউন্ড বক্স বা ডিজে বাজালে সমভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনাবশ্যক অপপ্রচারের মাধ্যমে এই আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় রঙ দেওয়ার চেষ্টাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।