উৎসবের দিন গুনতে শুরু করেছে বাংলা। আর তার আগেই রাজ্যজুড়ে বেহাল রাস্তাঘাট দ্রুত সারিয়ে তোলার কাজে কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। পুজোর মুখে সাধারণ মানুষের যাতায়াত মসৃণ রাখতে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ জারি করল রাজ্য সরকার। সরকারের এই নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পূর্ত দফতর থেকে সমস্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং জোনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাঠিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই আয়োজিত এক প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজো শুরুর আগেই রাজ্যের প্রধান ও সংযোগকারী রাস্তাগুলির অবস্থা ফেরানোর উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। ১০ অক্টোবরের মধ্যেই কাজ শেষ করার যে সময়সীমা তিনি বেঁধে দিয়েছিলেন, তার ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ। পূর্ত দফতর সূত্রের খবর, রাজ্যের কোথায় কী ধরনের পথ সংস্কার প্রয়োজন এবং বর্তমানে রাস্তাগুলির স্থীতি কেমন, তা বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সমস্ত তথ্য ৩ আগস্টের মধ্যে 'সমীক্ষা' পোর্টালে আপলোড করার কথা বলা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই সংক্রান্ত সিংহভাগ তথ্যই দফতরে পৌঁছে গিয়েছে।
সংগৃহীত সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এবার জেলাভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামছে পূর্ত দফতর। পঞ্চায়েত এলাকা থেকে শুরু করে শহরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পথ— সবক্ষেত্রেই দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দফতরের আধিকারিকদের পর্যবেক্ষণ, বর্ষার মরশুমে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে পথঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও মণ্ডপ পরিক্রমায় বড় বাধা হতে পারে। ফলে এই দফায় আর কোনো ঢিলেঢালা মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১০ অক্টোবরের সময়সীমা মাথায় রেখেই পূর্ত দফতরের প্রকৌশলীদের নজরদারিতেই রাজ্যজুড়ে পুরোদমে শুরু হতে চলেছে রাস্তা মেরামতের কাজ।
















