নেতাজি অসম্মানে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। বুধবার নবান্নের সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, "অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করুন, ডিলিট করলেও ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।" একই সঙ্গে প্রশাসনিক প্রধান স্পষ্ট জানান, নেতাজির সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্যে কাউকে ছাড়া হবে না। একই সঙ্গে এদিন বিধানসভায় অধিবেশনে নির্দেশ দেন, "প্রত্যেক বিধায়ককে তাঁদের নিজ নিজ নির্বাচনী কেন্দ্রে নেতাজির নামাঙ্কিত একটি করে বিশেষ ‘সেবাকেন্দ্র’ চালু করুন।" সাধারণ মানুষের সহায়তায় এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ পরিচালনার লক্ষ্যে এই সেবাকেন্দ্রগুলি চালুর কথা বলা হয়েছে।
কোচবিহারের স্বঘোষিত মহারাজ তথা গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতা ও বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ অনন্ত মহারাজ সম্প্রতি নেতাজির প্রতি অসম্মান করে মন্তব্য করেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নাকি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) বিন্দুমাত্র ভূমিকা ছিল না! স্বাধীনতার প্রাক্কালে যদি শাসনভার কোচবিহারের মহারাজাকে দেওয়া হত, তবে নাকি ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার মতো ঐতিহাসিক বিপর্যয়ই ঘটত না বলেও মন্তব্য করেন স্বঘোষিত মহারাজ। এই বক্তব্য সামনে আসতেই নিন্দার ঝড়ে ওঠে। অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি। প্রতিবাদে গর্জে ওঠে তৃণমূল (TMC)। স্বয়ং দলনেত্রী শ্যামবাজারের মোড়ে নেতাজি মূর্তিকে শ্রদ্ধা জানান।
তার পরেই এদিন দিনভর নেতাজিকে বিভিন্নভাবে সম্মান জানাতে ব্যস্ত সরকার। এদিন প্রথমে বিশেষ অধিবেশন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেক বিধায়ককে তাঁদের নিজ নিজ নির্বাচনী কেন্দ্রে নেতাজির নামাঙ্কিত একটি করে বিশেষ ‘সেবাকেন্দ্র’ চালু করুন। সাধারণ মানুষের সহায়তায় এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ পরিচালনার লক্ষ্যে এই সেবাকেন্দ্রগুলি চালুর কথা বলা হয়েছে।“ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, “প্রতি বিধায়ক পিছু নিজ নিজ কেন্দ্রে অবিলম্বে একটি করে জনসেবামূলক সেবাকেন্দ্র গড়ে তুলুন। তবে এই কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ও নির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে।“ যে বিধায়করা নিজেক উদ্যোগে এই সেবা কেন্দ্র চালু করবেন, সেই সেবাকেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক নাম হতে হবে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’। প্রতিটি সেবাকেন্দ্রে নেতাজির ঐতিহ্যবাহী ধুতি ও পাঞ্জাবি পরিহিত এক বিশেষ ছবি সুনির্দিষ্ট স্থানে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুভেন্দু জানান, এই দুটি শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করতে পারলে সরকারি নিয়ম মেনে বিধায়কদের প্রতি মাসে এই ধরনের সেবা কেন্দ্র সফলভাবে চালানোর জন্য ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
এর পরে এদিন বিকেলে নবান্নের সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, "যাঁরা দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তা ভাল নয়, এটা ভাল ভাবে নিচ্ছি না। অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করুন, ডিলিট করলেও ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। সাইবার সেলকে এব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি। উত্তরবঙ্গের বিধায়করা এনিয়ে আমার কাছে দাবি জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে থেকে এসব চলবে না, প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে"।
উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে গর্জে উঠে শুভেন্দু জানান, কিছু মানুষ বিশ্ববন্দিত, প্রকৃত দেশপ্রেমিক, ভারতের স্বাধীনতার প্রধান স্থপতি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করে চলেছেন। রাজ্য সরকার বিষয়টির দিকে নজর রেখেছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "উত্তরবঙ্গ বিধায়করা প্রত্যেকে চান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিক। যেখানে যেখানে অভিযোগ, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় মামলা হবে। ফেসবুকে এবং সোশ্য়াল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির যে সিস্টেম রয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে পদক্ষেপ করার ব্যবস্থা করছি। নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। আর যাঁরা দুঃসাহস দেখিয়েছেন, আমি তাঁদের অনুরোধ করব, অনুরোধ ঠিক নয়, পরামর্শ দেব, তাঁরা যে দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তা ভাল নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পুলিশ ভালভাবে নিচ্ছে না এটাকে। অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করুন। নিজেদের পোস্ট ডিলিট করুন এখনই। ডিলিট করলেই যে ছাড় পাবেন, তা নয়। নির্দিষ্ট ধারায় পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা হস্তক্ষেপ করব না।"
গোটা বিষয়টিতে উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, "আমাদের সরকার এবং পুলিশ অবিলম্বে কঠোর এবং কঠিন ব্যবস্থা নেবে।"
















