অবশেষে চোখের চিকিৎসার জন্য সুপ্রিম অনুমতি পেলেন তৃণমূল (TMC) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার, তাঁকে ৩ সপ্তাহের জন্য যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এর আগেই কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) আবেদন করলেও অনুমতি মেলেনি। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যান অভিষেক। এদিন তাঁকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। 

চোখের চিকিৎসার জন্যে বিদেশে যেতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানানিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অভিষেককে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। বিচারপতি জানান, চিকিৎসা সংক্রান্ত মতামতের জন্য অভিষেককে এসএসকেএম হাসপাতালে যেতে হবে। সেখানকার চক্ষু বিভাগের প্রধান একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে তাঁর বিদেশযাত্রার প্রয়োজনীয়তার দিকটি খতিয়ে দেখবেন।

সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ৭ অগাস্ট শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এদিন অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, তাঁর মক্কেল সাংসদ। তাঁর ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট রয়েছে। তাঁর পরিবার-স্ত্রী, পুত্র, কন্যা কলকাতায় রয়েছেন। এর আগেও একাধিকবার তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ গিয়েছেন। অভিষেকের আইনজীবী আরও জানান, ‘অপারেশন সিন্দুর’ আউটরিচ কর্মসূচির জন্য অভিষেককে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেটি ব্যবহার করেই বিদেশযাত্রা করবেন। ফলে আন্তর্জাতিক দূতাবাসগুলি সহজেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখতে পারবে। সুতরাং পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। আইনজীবী সাওয়ালে বলেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরেই অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা রুজু করা হয়েছে।

জবাবে এএসজি পাল্টা বলেন, আগের সরকারের সেই সাহস ছিল না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে চিকিৎসার আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে গঠিত চিকিৎসক বোর্ডে সামনে হাজিরা দেওয়া উচিত ছিল অভিষেকের।

এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেই তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে বাধা দেওয়া যায় না। কোনও ব্যক্তির বিদেশে যাওয়ার ও নিজের পছন্দমতো চিকিৎসা করানোর অধিকার রয়েছে।

তবে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, অভিষেককে তাঁর ডিপ্লোম্যাটিক বা কূটনৈতিক পাসপোর্টের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হবে। পাশাপাশি তাঁর সম্পূর্ণ সফরসূচি ও বিদেশে অবস্থানের ঠিকানা তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা রাখতে হবে। অভিষেকের আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ, সেই ভ্রমণসূচির গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। জনসমক্ষে সেটি প্রকাশ করা যাবে না।