SIR-র পর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হয়েছে। তারপর কেটে গিয়েছে তিন মাসের বেশি সময়। নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু এসআইআর-র নাম বাদ পরা মানুষদের ট্রাইবুনালে আবেদনে নিষ্পত্তির গতি অত্যন্ত শ্লথ। যা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করল স্বয়ং সুপ্রিম কোর্ট।

 মঙ্গলবার প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর মামলা শুনানিতে বিচারপতি সূর্যকান্ত ট্রাইবুনালে শুনানির হার নিয়ে  রীতিমতো কড়া মন্তব্য করলেন। অধীর চৌধুরী আগে দাবি করেছেন মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় অতিরিক্ত ট্রাইবুনাল গঠন করা হোক কারণ এই দুই জেলায় আবেদনকারী সংখ্যা সব থেকে বেশি। কিন্তু আবেদনকারী তুলনা নিষ্পত্তিক কম হচ্ছে। অতিরিক্ত ট্রাইবুনার গঠন করার আবেদন জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

 মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সূর্য কান্ত, জয়মাল্য বাগচী এবং ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হয়ে সাওয়াল করেন ফেরদৌস শামীম। যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ কত নিষ্পত্তি হয়েছে এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

 বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, শুধুমাত্র ট্রাইবুনালে আবেদন করলেই হবে না কতগুলো মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি বিচারপতি সূর্য কান্তের পর্যবেক্ষণ নিষ্পত্তি কাজ দ্রুত না হলে পরের ভোট চলে আসবে। কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি নির্দেশ দেন, কাজ হচ্ছে কিনা সেটা শুধু আপনারাই বলবেন না, আমাদেরও দেখা দরকার কারণ ট্রাইবুনাল আমরাই গঠন করেছি। 

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-র নাম বাদ পরা মানুষরা যাতে ফের আবেদন করতে পারেন এর জন্য কুড়িটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এই কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। ফলে রাজ্যে ২৪ টি জেলায় ১৮টি ট্রাইবুনালে কাজ হচ্ছে। কমিশনের আইনজীবী শেষাত্রি নাইডু জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি ট্রাইবুনালে বদলের নির্দেশ আছে সেটা তারা খতিয়ে দেখবেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫শে আগস্ট।