প্রথমবার কেন্দ্রের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ- আগেই একথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendra Adhikari)। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই শুক্রবার নিজের বিধানসভা (Assembly) এলাকা ভবানীপুরে মিছিল করলেন শুভেন্দু। সার্ভে বিল্ডিং থেকে  হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলে জনস্রোত। যা দেখে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বললেন, "আমার সঙ্গে মিছিলে এত মানুষ যোগ দিয়েছেন, তা দেখে আপ্লুত। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।" মুখ্যমন্ত্রী নেতৃত্বে মিছিলে পা মেলান শিল্পমন্ত্রী তাপস চট্টোপাধ্যায়, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন-সহ বিজেপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। 

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সারা রাজ্যে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ থেকে শুরু করে তিরঙ্গা র‍্যালি, পদযাত্রা, আলোকসজ্জা এবং একাধিক দেশাত্মবোধক কর্মসূচির আয়োজনের কথা আগেই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। নেশন ফার্স্ট- এই আদর্শকে সামনে রেখেই কেন্দ্রের এই কর্মসূচিতে রাজ্য সরকার শামিল হচ্ছে বলে জানান তিনি। ভবানীপুরের (Bhawanipur) বিধায়ক হিসেবে ৭ অগাস্ট সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত একটি পৃথক তিরঙ্গা যাত্রা করবেন বলেও বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সেই মতো এদিন বিকেলে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির কার্যত মেগা সেলিব্রেশনের শুরু করে দিলেন শুভেন্দু। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের অন্তর্গত সার্ভে বিল্ডিং থেকে  হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলে নেতৃত্ব দেন  তিনি। রাজপথে ছেয়ে যায় তেরঙ্গা পতাকায়। বিপুল জনস্রোত। হাজরা মোড়ে মিছিল পৌঁছনোর পর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার সঙ্গে মিছিলে এত মানুষ যোগ দিয়েছেন, তা দেখে আপ্লুত। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আগামী ১০ তারিখ আমরা নেতাজি মূর্তি থেকে আবার তিরঙ্গা যাত্রা করব। ৫০ হাজার মানুষকে নিয়ে ঐতিহাসিক তেরঙ্গা যাত্রা হবে। বিড়লা তারামণ্ডলের ৭ নম্বর গেট পর্যন্ত যাব আমরা। সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।“ 

নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) আহ্বানের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘দিল সে তেরঙ্গা, প্যায়ার সে তেরঙ্গা, হর ঘর তেরঙ্গা’। এই যাত্রা জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে আয়োজিত। বাংলায় এবার রাষ্ট্রবাদী সরকার গঠিত হয়েছে। সব জনগণকে আগাম স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রবাদী অভিনন্দন।”

১৪ অগাস্ট দুপুর ৩টেয় কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশ থেকে একটি বিশাল তিরঙ্গা র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে। র‍্যালিতে মন্ত্রিসভার সদস্য, মুখ্যসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা অংশ নেবেন। অন্তত ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতির আশা করছে সরকার। ইতিমধ্যেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে আগেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে দেশাত্মবোধক গান, প্রবন্ধ, কুইজ, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতামূলক পদযাত্রার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পতাকার রঙে আলোকিত করা হবে। ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্প সংস্থা, হোটেল ও শপিং মলগুলিকেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জার আহ্বান জানানো হয়েছে।