ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে জারি করা একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েত এলাকায় কর বৃদ্ধি সংক্রান্ত জল্পনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েতে পরিবারপিছু কর বাড়িয়ে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত করা হতে পারে— এমন খবর চাউর হতেই বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সার্বিক অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি এড়াতে শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কিত নির্দেশিকাটি বাতিল করার কথা জানাল পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর।
প্রশাসন সূত্রের খবর, পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আর্থিক উৎস ও রাজস্ব বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পর্যালোচনার জন্য সম্প্রতি একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশিকার কিছু অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক বাড়তে থাকায় প্রশাসনিক স্তরে পর্যালোচনা করে নির্দেশিকাটি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কর বৃদ্ধির এই খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল ব্যাখ্যার ফল। প্রশাসনের দাবি, একটি বিশেষ মহল বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিল। সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত কোনো কর চাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দফতর থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, ১৯৭৩ সালের পঞ্চায়েত আইনের প্রচলিত নিয়ম অনুসারেই পঞ্চায়েত এলাকায় কর আদায় প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, নির্দেশিকা বাতিলের পর বিরোধী দলগুলির দাবি, প্রশাসনিক চাপ ও জনভাবনার কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত এলাকায় কর সংক্রান্ত এই নির্দেশিকা প্রকাশ ও বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জোর চর্চা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে।















