দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ফের বাঘের স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ করছে রাজ্য বন দফতর। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী ২ অক্টোবর, গান্ধী জয়ন্তীর দিন হেলিকপ্টারে চাপিয়ে বিহার থেকে একটি বাঘিনিকে নিয়ে আসা হচ্ছে বক্সার জঙ্গলে। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এবং বনের নিরাপত্তার স্বার্থে টানা চার দিন বক্সায় পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে এই বাঘিনিটিকে আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উপযুক্ত বাঘিনি চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ হয়েছে। তাকে খাঁচাবন্দি করে নিরাপদে বক্সায় আনার জন্য বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের বনকর্তারা একযোগে অভিযানে নেমেছেন। সঙ্গে রয়েছেন জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (এনটিসিএ) এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরাও। জঙ্গলে ক্যামেরা ট্র্যাপ ও ড্রোনের মাধ্যমে বাঘিনির প্রতিটি গতিবিধির ওপর চব্বিশ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে।
রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে সড়কপথের ধকল এড়াতে হেলিকপ্টারেই বাঘিনিকে বক্সায় উড়িয়ে আনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বক্সার অন্দরে বাঘের বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি, তৃণভোজী শিকার প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সার্বিক বন ব্যবস্থাপনার কাজ চলছিল। এই বাঘিনির আগমনের হাত ধরেই ভবিষ্যতে বংশবিস্তারের মাধ্যমে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে বন দফতর।
বাঘিনির আগমন ঘিরে কড়া সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। তবে শেষ মুহূর্তে আবহাওয়া বিগড়ে গেলে নির্ধারিত দিনে এই কর্মসূচি কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে কিছুটা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বন আধিকারিকেরা।
















