ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে বাংলার জন্য নতুন শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। মঙ্গলবার শহরে কলকাতা চেম্বার অফ কমার্সের ১৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি বলেন, কয়েক দশক পর বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দায়িত্ব সেই প্রত্যাশা পূরণ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে দ্রুত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী বলেন, ভারতের উন্নয়নের দুই প্রধান চালিকাশক্তি হল প্রযুক্তি ও বাণিজ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওমান এবং ইএফটিএভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হয়েছে, যার ফলে বাংলার ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের সামনেও বিশ্ববাজারে প্রবেশের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, ভারতকে শুধু বাজার হিসেবে নয়, যৌথ উৎপাদন ও বিনিয়োগের অংশীদার হিসেবেও দেখছে বিশ্বের উন্নত দেশগুলি।
উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে জিতিন প্রসাদ বলেন, উন্নত পরিকাঠামো, শিল্পবান্ধব পরিবেশ ও নীতির ধারাবাহিকতার ফলে সেখানে যেভাবে শিল্পায়ন হয়েছে, বাংলাতেও সেই মডেলে 'প্লাগ অ্যান্ড প্লে' শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। সরকার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করবে, শিল্পপতিদের শুধু বিনিয়োগ করে উৎপাদন শুরু করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সেন্টার এবং ইলেকট্রনিক্সের নকশা (ডিজাইন) তৈরির ক্ষেত্রে বাংলার বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা সহজ করতে ফেসলেস ক্লিয়ারেন্স, জন বিশ্বাস আইনের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা কমানো এবং সরকার ও শিল্পের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সফল হতে হলে পণ্যের গুণমানের উপরই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর কথায়, "কোয়ালিটি, কোয়ালিটি এবং কোয়ালিটি"—এই তিনটিই আগামী দিনের ভারতীয় শিল্পের সাফল্যের চাবিকাঠি।
















