রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার ড. আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে 'থ্রেট কালচার' ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার সরাসরি অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমান কোনও বিচারপতিকে দিয়ে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে শাসকদল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের স্পষ্ট অভিযোগ, মানসিক চাপ, সামাজিক অপমানের ভয় এবং রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েই প্রাণ হারিয়েছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

তৃণমূলের দাবি, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কখনোই নিজের ইচ্ছায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছেড়ে যাননি। বীরভূমের কিছু প্রভাবশালী নেতা, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির লাগাতার চাপেই তাঁকে জোর করে অন্য শিবিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। কুণাল বলেন, "আশিসদা মন থেকে এই শিবির বদল মেনে নিতে পারেননি। তাঁর ফেসবুক পেজে এখনও জ্বলজ্বল করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। নেতৃত্ব সম্বন্ধে তিনি কখনও বিরূপ মন্তব্য করেননি। গোটাটাই বিজেপির তৈরি করা এক ভয়ানক থ্রেট কালচার।"

কুণালের আরও অভিযোগ, বিরোধী নেতাদের দলে টানতে এক পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেলের ছক তৈরি করেছে বিজেপি। ভয় দেখানো হয়, হয় তাদের দলে আসতে হবে, নয়তো পুলিশ ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে চোর অপবাদ দেওয়া হবে, ডিম ছোঁড়া হবে এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করে সেই ছবি ভাইরাল করা হবে। এই অসভ্যতার রাজনীতি এবং মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই এমন চরম পরিণতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কুণাল বলেন, ২১ জুলাইয়ের সভায় যাওয়ার পথে এক বিজেপি নেতা আশিসবাবুর গাড়ি থামিয়ে চরম অপমান করেছিলেন। ওই বিজেপি নেতা নাকি প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, বয়স না থাকলে মেরে পিঠের চামড়া তুলে দেওয়া হতো। কুণালের প্রশ্ন, একজন ভদ্র ও প্রবীণ রাজনীতিকের পক্ষে কি এমন অপমান মেনে নেওয়া সম্ভব?

একই সঙ্গে এই মৃত্যুর ঘটনায় বীরভূমের অপর শিবিরের নেতাদের নীরবতা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, পুলিশ বিজেপি নেতাদের অন্যায় কাজে মদত দিচ্ছে। এক জন প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারের এই মর্মান্তিক পরিণতির বিচার চেয়ে কুণাল ঘোষের দাবি, বর্তমান কোনও বিচারপতির নজরদারিতে এই রহস্যজনক মৃত্যুর যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।