ডানকুনিতে গত ১২ জুলাই একটি হোসিয়ারি সংস্থার কারখানার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিতর্ক শুরু সেখান থেকেই। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, শিল্পায়ন দেখাতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় প্ল্যান বা নকশা ছাড়াই কারখানার শিলান্যাস করা হয়েছে। যে জমিতে কারখানার উদ্বোধন হয়েছে, সেই জমিতে ওয়্যার হাউস তৈরির অনুমতি ছিল। কিন্তু কারখানা তৈরির নকশা কোথায়? থাকলে প্রকাশ্যে আনুক সংস্থা। অভিযোগ ঢাকতে শুক্রবার আর একবার তাড়াহুড়ো করে শিল্পসচিব বন্দনা যাদব সংস্থার কর্তাকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, সব নথি আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, নথি থাকলে সেটা সাংবাদিকদের সামনে আনলেন না কেন? কিসের সমস্যা? নাকি সরকারের সৌজন্যে পিছনের দরজা দিয়ে ব্যাক ডেটে নথি তৈরির কাজ চলছে?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার স্বৈরাচারী কৌশল। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ যখন নথির ভিত্তিতে এই প্রকল্পের আসল রূপটি প্রকাশ্যে এনেছেন, তখন তাঁকে আইনি পথে ভয় দেখাতে মানহানির নোটিশ পাঠিয়েছে লাক্স কর্তৃপক্ষ। সরকারের কাজ শিল্পের প্রসার ঘটানো, কোনো বেসরকারি সংস্থার দুর্নীতির মুখপাত্র হয়ে বিরোধীদের আইনি হুমকি দেওয়া নয়। 

অশোক টোডি এই বিষয়ে মামলা করার কথা জানিয়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “অশোক টোডির অনেক টাকা, ওনারা বড় লোক, ওনার মামলা করার ইচ্ছে হলে করবেন। আমি কোনও অভিযোগ করিনি। ওনারা পরিচিত বিশিষ্ট শিল্পপতি, ওনাদের ব্র্যান্ডও বিখ্যাত।  একটা তথ্য আসছিল, ওনাদের কারখানার জমিটা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি হয়নি।ওনারা যদি বলে দেন হয়েছে মিটে গেল। ঔ জমিতে ওয়ার হাউস তৈরির পরিকল্পনা ছিল সেই মতোই সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা হয়। সব যদি সঠিক থাকে, তাহলে তো কোনও প্রশ্নই নেই। কারখানা করবেন এটা তো ভালো কথা। কিন্তু প্রশ্ন করলেই যদি কেউ বলেন মামলা করব। আমরা তো কিছু বলিনি। খালি বলেছি কোনও ফাঁক আছে কিনা দেখে নিতে।”