রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Asish Banerjee Death) রহস্যমৃত্যু। শনিবার রাত পর্যন্ত হাসি খুশি থাকা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে হতবাক তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীব থেকে পরিবারের সসস্যরা। কোনও রাজনৈতিক চাপের কাছে হার মানলেন নাকি বিজেপির তোলা দুর্নীতির অভিযোগের গ্লানিতে বেছে নিলেন চরম পরিণতি? এই প্রশ্ন যখন ঘুরপাক খাচ্ছে তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত চাইলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ(TMC MLA Kunal Ghosh)।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু বাংলার এই পরিবর্তিত রাজনীতির লজ্জা বলে উল্লেখ করেছেন কুণাল। বাংলায় পালাবদলের পর বিভক্ত হয়েছে বিরোধী তৃণমূল। ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন একাধিক নেতা-বিধায়ক। গত ২২ জুন নিউটাউনে ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে দেখা গিয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারকে। বেলেঘাটার বিধায়কের অভিযোগ তাঁকে চাপ দিয়ে শিবির বদল করানো হয়েছিল।
কুণাল ঘোষ লিখেছেন, “বীরভূমে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু। বলা হচ্ছে আত্মহত্যা, সুইসাইড নোটও নাকি পাওয়া গেছে, তবু বলব, ঘটনা অনুসন্ধানসাপেক্ষ।ভাবা যাচ্ছে না। নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। কোনো দোষ প্রমাণের আগে কাউকে অপবাদ, কলঙ্ক, সামাজিক অপদস্থ করার যে প্রবণতা বিজেপি শুরু করেছে, এই ঘটনা তার পরিণাম। কিছুদিন আগেই রাস্তায় তাঁকে বিজেপি নেতার অপমান করার যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাকেও আত্মহত্যায় প্ররোচনা বলে ধরা উচিত।“
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে ঋতব্রত শিবিরকে নাম না করে নিশানা করেছেন কুণাল। তাঁর কথায়, “ভালো তৃণমূল' হয়েও বাঁচা যায় না। কারণ ওখানকার পাঁচ ছ'জন শুধু নিজেদের পাপ ঢাকার জন্যে বিজেপির পা চাটতে গেছে। সসম্মানে ওই রাজনীতি করা যায় না। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে মমতাদির নেতৃত্বে এককাট্টা থাকতে হবে। নইলে বালিশচাটন আর পাঁচ ছ'জন নিজেদের ধান্দা গোছাবে। আশিসদাকে আত্মহত্যা করতে হবে। এটা তো ওই শিবিরেরও ব্যর্থতা।“
রাজ্যের প্রাক্তন কৃষি মন্ত্রী তথা স্পিকারকে চাপ দিয়ে শিবির বদল করানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। কুণালের অভিযোগ, “আশিসদাকে চাপ দিয়ে ওই শিবিরে নেওয়া হয়েছিল। উনি দলীয় নেতাদের বলার চেষ্টা করছিলেন মমতাদির নেতৃত্বে থাকাই ভালো।( যেটা আরও অনেকের মতামত)। কিন্তু দুর্নীতির তদন্ত থেকে বাঁচতে ওদিকে যাওয়া কয়েকজন আশিসদাকে চাপ দিয়ে সঙ্গে থাকতে বাধ্য করেছিলেন বলে সূত্রের খবর।আত্মহত্যাই, না কি অন্য রহস্য আছে, তদন্তকারীরা দেখুন। পুলিশ, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।
আশিসদার আত্মহত্যা/রহস্যমৃত্যু বাংলার এই পরিবর্তিত রাজনীতির লজ্জা। প্রাক্তন বিধায়ক ও ডেপুটি স্পিকারকে রাজনীতির ঘূর্ণিতে আত্মহত্যা করতে হচ্ছে, এ লজ্জা রাখব কোথায়?”
















