ধর্মতলার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু বাংলাদেশের সাংবাদিক দেবাশিস দত্তের (Bangladeshi journalist Debashis Dutta)। একইসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (Afsana Shimmin) এবং তাঁদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশিস দত্ত (Son Swarnashis Dutta)। বেঙ্গালুরু (Bengaluru) থেকে চিকিৎসা করিয়ে মঙ্গলবারই কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা। রাত কাটানোর জন্য উঠেছিলেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের (Mirza Ghalib Street) একটি হোটেলে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ আগুনে নিভে গেল একই পরিবারের তিনটি প্রাণ।

দেবাশিস দত্ত বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘আজকের আলো’-র (Bangladesh Newspaper) সাংবাদিক ছিলেন। কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশিস স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে কলকাতায় এসে ধর্মতলার হোটেলে ওঠেন তাঁরা। অগ্নিকাণ্ডের পর মৃতদের তালিকা তৈরির সময় সামনে আসে পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর খবর। তাঁদের সঙ্গে কুষ্টিয়ার আরও এক বাসিন্দা মহম্মদ আকরাম আলির মৃত্যুর কথাও জানা গিয়েছে। ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহমেদ বাবুও মৃতদের মধ্যে রয়েছেন।

কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মহম্মদ খালেদ (Bangladesh's Deputy High Commissioner Mohammad Khaled) জানিয়েছেন, উপ-হাইকমিশনের এক আধিকারিক স্থানীয় থানা ও মর্গে গিয়ে মৃতদের পরিচয় যাচাই করেছেন। পুলিশের সহযোগিতায় পাঁচজনের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে কলকাতা পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত মৃত পাঁচজনের পরিচয় বা নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনিক ভাবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সতর্কতাও থাকছে।

মঙ্গলবার রাতে নিউ মার্কেট থানা (New Market Police Station) এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে (Shikha Inn Hotel) আগুন লাগে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘন ধোঁয়ার মধ্যে দমবন্ধ হয়ে নজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। দেবাশিস, তাঁর স্ত্রী এবং ছোট্ট স্বর্ণাশিসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমেছে বাংলাদেশেও।