তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তা যাওয়া সাংসদদের নিয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করবে তৃণমূল (TMC)। বুধবার, প্রতিনিধি দল নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেখানে দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও লোকসভায় তাঁদের স্বীকৃতি নিয়ে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূল সাংসদদের দল ছাড়ার ধুম পড়ে গিয়েছিল। এর পরে তৃণমূলের পদক্ষেপ দেখে দলবিরোধী আইন থেকে বাঁচতে অনামী দল NCPI-তে নাম লেখান কাকলি, শতাব্দী, সুদীপ-সহ কমপক্ষে ২০ সাংসদ। কিন্তু লোকসভার স্পিকার এখনও তাঁদের স্বীকৃতি না দেওয়ায় এই দলত্যাগীদের পাশে রাজনৈতিক দল হিসেবে জ্বলজ্বল করছে তৃণমূলের নাম। এই নিয়ে সরব তৃণমূলষ
এদিন অভিষেকের নেতৃত্বে প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন। বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেখানে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, গত ২২-২৩ জুলাই প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছিল। এরপর প্রায় ২০ দিন কেটে গেলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। অভিষেকের কথায়, “আপনি হয় তাঁদের NCPI হিসেবে স্বীকৃতি দিন। না হলে পদক্ষেপ করুন। আপনি Recognition-ও দিচ্ছেন না। স্বীকৃতি দিলে তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে এটা চ্যালেঞ্জ (Challenge) করে হাই কোর্ট, (High Court), সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যেতে পারে। আপনি স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। আর আপনি আমাদের সময় থেকে কেটে তাঁদের বলবার সুযোগ করে দিচ্ছেন!”
লোকসভায় দলত্যাগী সাংসদদের বক্তব্য রাখার সময় তাঁদের নামের পাশে ‘AITC’ লেখা থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, “যাঁরা বক্তব্য রেখেছেন তাঁরা তথাকথিত NCPI-এর সাংসদরা, তাঁদের নামের পাশে লেখা থাকছে AITC। তাঁরা জোড়াফুল প্রতীকে নির্বাচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে নির্বাচিত। আর এসে এখন বলছে NDA-কে সমর্থন করছে।”
দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “Tenth Schedule যদি আপনি দেখেন, তাহলে disqualification ছাড়া আর তো কোনও উপায় নেই।” তিনি জানান, গত জুন মাসে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে প্রায় ২০টি disqualification petition দাখিল করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পর প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর পরেই অভিষেক বলেন, ”সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশ রয়েছে, যেখানে তিন মাসের মধ্যে স্পিকারকে এই ধরনের বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। স্পিকার যদি বিবেচনা না করেন, তখন আমরা সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করব।”
একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের বিষয় নিয়েও আমরা বলেছি, আপনি কথা দিয়েছিলেন যে আবার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু সেটাও আপনি কিছু করলেন না। ওঁর কাছে কোনও সদুত্তর নেই। উনি বলেছেন, নেক্সট সেশনের আগে এগুলো করে দেবেন। কিন্তু এই সেশন তো দেখতে দেখতে হয়ে গেল।”
















