হেফাজতে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তৃণমূল কর্মীকে খুন করা হল। বিজেপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে পুলিশি সন্ত্রাসের নির্মম বহিঃপ্রকাশের সাক্ষী থাকল হালিশহর। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী বিরজু কেওট'কে থানায় নিয়ে গিয়ে অমানবিক অত্যাচার চালিয়ে হত্যা করা হয়! মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রীর  চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, হাত-পা বেঁধে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছ, হাতে-পায়ে বাঁধার দাগ স্পষ্ট, কান থেকে রক্তও বেরিয়েছে। শরীরের পিছনেও প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সেই ছবি প্রকাশ করে গর্জে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তৃণমূল জানিয়েছে, পুলিশি হেফাজতে থাকা যেকোনও নাগরিকের জীবন ও মৌলিক অধিকার রক্ষা করা পুলিশ প্রশাসনের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। অথচ আজ রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ! 

শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশের নির্মমতার প্রমাণ হল উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে তৃণমূলের নিষ্ঠাবান কর্মী বিরজু কেওট'কে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো এবং মর্মান্তিক মৃত্যু। তৃণমূল সাফ জানিয়েছে, পুলিশি হেফাজতে এই মৃত্যু কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি সরাসরি রাজ্য সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে চলা পুলিশি সন্ত্রাসের চরম বহিঃপ্রকাশ। থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, বেদনার এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের জোরপূর্বক মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। ধিক্কার এই জনবিরোধী বিজেপি সরকারকে এবং তাদের অনুগত পুলিশ প্রশাসনকে! বাংলার মানুষ এই অন্যায় কখনই বরদাস্ত করবে না।

নিহত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী বলেন, হালিশহর থেকে তাঁকে ধরা হয়েছিল। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর আমাকে ডাকা হয়। আমি জামাকাপড় দিয়ে আসি, তখন সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। এরপর তাঁর উপর যে অকথ্য অত্যাচার চলে তার প্রমাণ রয়েছে তাঁর শরীরেই। তাঁর অভিযোগ ভোরের দিকে থানাতেই মারা যান। তারপর হাসপাতালে দেহ ফেলে রেখে চলে যায় পুলিশ। এখন পোস্টমর্টেমের জন্য আমাকে জিডি করতে বলা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই। এই কি আমাদর পরিবর্তন। এই আমাদের প্রশাসন। প্রশাসন ডেকে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালিয়ে মানুষকে মেরে ফেলে, তাহলে আমরা কার কাছে বিচার চাইব?