মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নন্দনের আদলে একটি নতুন চলচ্চিত্র কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এই প্রেক্ষাগৃহে শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনীই নয়, বাংলা সিনেমার শতবর্ষের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং মহানায়কের জীবনকৃতি নিয়ে গড়ে তোলা হবে একটি বিশ্বমানের সংগ্রহশালা। এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান করতে ইতিমধ্যেই হিডকোর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ডঃ সৌমিত্র মোহন জানিয়েছেন।
নন্দনের ধাঁচে নতুন চলচ্চিত্র কেন্দ্র, মহানায়কের জন্মশতবর্ষে বিশ্বমানের সংগ্রহশালার উদ্যোগ রাজ্যের
Sponsored

বুধবার নন্দনে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব জানান, জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রাজ্য জুড়ে তো বটেই, দেশ ও বিদেশের মাটিতেও বছরভর নানা কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হল, বাংলা সিনেমার গৌরবময় ইতিহাস এবং মহানায়কের অনন্য অভিনয় ও সাংস্কৃতিক অবদানকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
প্রস্তাবিত নতুন চলচ্চিত্র কেন্দ্রে উন্নত প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ একাধিক প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি থাকবে একটি বিশালাকার সংগ্রহশালা। সেখানে স্থান পাবে বাংলা সিনেমার ১০০ বছরের যাত্রাপথের দুর্লভ ছবি, ক্ল্যাসিক চলচ্চিত্রের মূল পোস্টার, স্মারক, ঐতিহাসিক নথি এবং নানা উপকরণ। এর ফলে শুধু উত্তমকুমারের স্মৃতিরক্ষাই নয়, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাসের এক স্থায়ী সংরক্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে এই প্রতিষ্ঠান।
জন্মশতবর্ষ উদযাপনের মূল পর্ব শুরু হবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে, যা চলবে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই পর্বে মহানায়কের স্মরণীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন, বিশেষ প্রদর্শনী এবং আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া, কলকাতার সঙ্গে মহানায়কের গভীর অনুভূতির কথা মাথায় রেখে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলিকে নিয়ে হেরিটেজ ওয়াকের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, মহানায়কের স্মৃতিধন্য কলকাতার স্থানগুলি ঘুরে দেখানোর মধ্য দিয়েই উদযাপনের সূচনা হবে। ৩ সেপ্টেম্বরের আগের মধ্যরাতে কেক কাটার বিশেষ আয়োজনও থাকবে।
অন্য দিকে, দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী উত্তম মঞ্চ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। উত্তমকুমারের স্মৃতিধন্য এই প্রেক্ষাগৃহের পরিকাঠামোগত সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, মুনমুন সেন, পরিচালক অরিন্দম শীল এবং রাজ চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্টরা। রাজ্য সরকারের মতে, উত্তমকুমার কেবল এক জন জনপ্রিয় নায়ক নন, বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এই উদযাপনের উদ্দেশ্য শুধু এক বছরের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তাঁর শিল্প ও ঐতিহ্যের স্থায়ী সংরক্ষণ।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













