Site Logo

লোকভবনে মাধ্যমিকের কৃতীদের সংবর্ধনা, নিজের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের তিন মন্ত্র শোনালেন রাজ্যপাল

EBBS Desk·
লোকভবনে মাধ্যমিকের কৃতীদের সংবর্ধনা, নিজের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের তিন মন্ত্র শোনালেন রাজ্যপাল

মাধ্যমিক পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করা রাজ্যের কৃতী পড়ুয়াদের বিশেষ সংবর্ধনা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। মঙ্গলবার লোকভবনে আয়োজিত একটি জমকালো অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মোট ১৩৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হতেই রাজ্যপাল পড়ুয়াদের সঙ্গে এক খোলামেলা মতবিনিময়ে অংশ নেন এবং তাঁদের মনে জমে থাকা হরেক রকমের প্রশ্নের অত্যন্ত সহজ ও অনুপ্রেরণামূলক উত্তর দেন।

এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে রাজ্যপাল নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে সাফল্যের তিনটি মূল চাবিকাঠির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জীবনে সফল হতে গেলে স্বপ্ন, দৃঢ়তা এবং শৃঙ্খলা— এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য স্থির করে সেই লক্ষ্য পূরণে অবিচল থাকতে হবে এবং জীবনে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে বলেও তরুণ প্রজন্মকে পরামর্শ দেন তিনি। কথায় কথায় উঠে আসে রাজ্যপালের নিজের জীবনসংগ্রামের নানা অজানা কাহিনি। উপস্থিত পড়ুয়াদের তিনি জানান, গ্রামের সাধারণ স্কুলে পড়াশোনার সময় তিনি বিদ্যুতের আলো পর্যন্ত দেখেননি। পরবর্তীকালে কলেজে পড়তে যখন শহরে আসেন, তখনই প্রথম বিদ্যুতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। এই তীব্র সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শুধুমাত্র অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে কীভাবে জীবনের মূলস্রোতে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেই অভিজ্ঞতাই এদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি।

জীবনে ব্যর্থতা আসা কতটা স্বাভাবিক, সেই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, নিজের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করার পরও যদি কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলে, তবে তাকে কোনোভাবেই প্রকৃত ব্যর্থতা বলা যায় না। তাঁর মতে, প্রকৃত ব্যর্থতা হল চেষ্টা করা ছেড়ে দেওয়া। তিনি নিজেও জীবনে বহু বাধা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু কখনও হাল ছাড়েননি বলে জানান।

শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনের উপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি পড়ুয়াদের সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা, সময়মতো ঘুমানো এবং নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। রাজ্যপালের মতে, এই ধরনের ছোট ছোট দৈনন্দিন অভ্যাসই ভবিষ্যতের বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক শক্তি তৈরি করে।

পাশাপাশি, এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হতে গেলে নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা জরুরি। প্রত্যেকে যদি নিজের কাজ সঠিকভাবে করেন, তবে তা পরোক্ষভাবে দেশের উন্নয়নেও বড় সহায়ক হবে। খেলাধুলা ও পড়াশোনার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার দ্বন্দ্বে পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, যে ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহ ও দক্ষতা রয়েছে, সেই পথেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। নিষ্ঠা ও পরিশ্রম থাকলে আজ খেলাধুলার জগতেও সফল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।

বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সমস্যা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার উপায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি সাফ জানান, পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে নিজের থেকেই। প্রত্যেক নাগরিক যদি সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে নিজের কর্তব্য পালন করেন, তবেই একটি সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এদিনের এই মুক্ত আলোচনায় আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের এক অনন্য বার্তা উঠে আসে রাজ্যপালের কণ্ঠে। তাঁর বক্তব্য থেকে জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধের পাঠ নিয়ে এক বুক উদ্দীপনা বুকে চেপে বাড়ি ফেরে উপস্থিত কৃতী পড়ুয়ারা।

আরও পড়ুন- তালা ভেঙে সুরুচি সংঘে পুলিশ, স্বরূপকে পাশে বসিয়ে ক্লাবঘরে তল্লাশি তদন্তকারীদের

_

_

Sponsored

Sranchi In Article

_

_

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from রাজ্য

View All →