প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গোটা দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অসংখ্য গানের মতোই তাঁর জীবনের অনেক অজানা মুহূর্তও আজ নতুন করে সামনে আসছে। তেমনই এক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে (Shaktigarh)। জাতীয় সড়কের ধারের এক সাধারণ মিষ্টির দোকান, আর সেখানে কিংবদন্তি শিল্পীর হঠাৎ আগমন। সেই অপ্রত্যাশিত সকাল আজও গল্প হয়ে বেঁচে রয়েছে শক্তিগড়ের জাভেদের মনে।
Sponsored

২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর। সকালের হালকা ঠান্ডার আমেজ। তখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি শক্তিগড়-এর ব্যস্ততা। জাতীয় সড়কের ধারে নিজের দোকান ‘ল্যাংচা কুঠী’ সামলাচ্ছিলেন শেখ জাভেদ ইসলাম। আচমকাই কয়েকটি গাড়ি এসে থামে দোকানের সামনে। প্রথমে বিশেষ গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই চমক ভাঙে। একটি গাড়ি থেকে নেমে সোজা দোকানের ভিতরে ঢুকে পড়লেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। হঠাৎ এমন অপ্রত্যাশিত আগমনে কিছুটা অবাক হয়ে যান জাভেদ, আর সেই মুহূর্তটিই পরে হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা হতবাক হয়ে পড়েছিলেন জাভেদ। দোকানে রাখা গরম ল্যাংচার বড় গামলার দিকে তাকিয়ে মিষ্টিটি (sweet) সম্পর্কে জানতে চান আশা ভোঁসলে। প্রথম ল্যাংচা খেতেই তাঁর মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। শুধু ল্যাংচাতেই (langcha) থামেননি, সেদিন শোনপাপড়িও খেয়েছিলেন তিনি। জাভেদের স্মৃতিতে এখনও ভাসে সেই মুহূর্ত। সেদিন আশা শুনিয়েছিলেন, শোনপাপড়ি তাঁর বিশেষ পছন্দের। আর ল্যাংচার স্বাদ এতটাই ভালো লেগেছিল যে, ফেরার পথে মুম্বই নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিক বাক্সে মিষ্টি প্যাকও করেন তিনি।
আসানসোলে একটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে গিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। মুম্বই ফেরার পথে কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ শক্তিগড়ে দাঁড়িয়েছিলেন সেদিন। তবে এই দোকানের সঙ্গে সঙ্গীত জগতের স্মৃতি অবশ্য আরও পুরনো। জাভেদের কথায়, দোকান যখন পুরনো শক্তিগড়ে ছিল, তখন শুটিংয়ের কাজে এসে ল্যাংচা খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন লতা মঙ্গেশকরও (Lata Mangeshkar)। তখন জাভেদ ছিলেন কিশোর। ফলে দুই কিংবদন্তি বোনের স্মৃতিতে জড়িয়ে থাকা এই দোকান আজও শক্তিগড়ের মানুষের কাছে বিশেষ গর্বের বিষয়।
আরও পড়ুন : আজ বিকেলে শিবাজী পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আশার শেষকৃত্য
সেই দিনের আরেকটি অমূল্য স্মৃতি আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছেন শেখ জাভেদ ইসলাম। আশা ভোঁসলের সঙ্গে তোলা একটি সেলফি। প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীরা আপত্তি জানালেও গায়িকা নিজেই হাসিমুখে সেলফি তুলতে সম্মতি দেন। হাতে ল্যাংচা নিয়ে ক্যামেরার সামনে সহজ ভঙ্গিতে পোজ দেন তিনি, যা আজও জাভেদের কাছে এক বিশেষ স্মৃতি হয়ে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। দোকান বড় হয়েছে, রাস্তা চওড়া হয়েছে, কিন্তু সেদিনের সেই স্মৃতির কাছে যেন সবই ম্লান। আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর শুনে আবারও সেই দিনের কথা মনে পড়ছে জাভেদের। তাঁর কথায়, এত বড় মাপের শিল্পীর এমন আন্তরিক ও সাধারণ ব্যবহার আজও তাঁকে আবেগাপ্লুত করে। আর শক্তিগড়ে দাঁড়িয়ে ল্যাংচা খাওয়ার সেই মুহূর্ত তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে রয়ে গিয়েছে।
-
-
-
-
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













