প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিআইএমের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতায়। বাড়ি লক্ষ্য করে পরপর কাঁচের বোতল ছোড়া, জানলার কাঁচ ভাঙচুর এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।ঘটনার পর বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে বসেছে পুলিশি পাহাড়া।

 এদিকে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে ঘিরে আবার সামনে নতুন করে আইনি বিতর্ক। তাঁর বিরুদ্ধে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ল কলকাতার গড়ফা ও তপসিয়া থানায়। গড়ফা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রীতম দত্ত। অন্যদিকে, তপসিয়া থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপি কর্মী সুরজ সিং।

অভিযোগকারী প্রীতম দত্তের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে এক ব্যক্তি বোতল ছুড়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন বিকাশরঞ্জন। আর সেই পোস্টের নীচে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই আপত্তি জানিয়েছেন প্রীতম। তাঁর দাবি, বিকাশরঞ্জনের সমাজমাধ্যমের পোস্টে করা মন্তব্য তাঁর ভাবাবেগে আঘাত করেছে। সেই কারণেই গড়ফা থানায় আইনজীবীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি কর্মী সুরজ সিংও তপসিয়া থানায় পৃথক অভিযোগ জানিয়েছেন। ফলে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে ঘিরে একই সময়ে দুই থানায় অভিযোগ জমা পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই ঘটনার পিছনে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, তাঁকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং অভিযুক্তের পরিচয় এখনও নিশ্চিত নয়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর পূর্ব যাদবপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৪(৬), ১২৫, ৭৯, ৩৫২ এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বাড়ি ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে হামলার পিছনে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন বাম নেতা, অন্যদিকে এই ঘটনায় বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যাদবপুরের বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ফলে তদন্তের পাশাপাশি ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও অব্যাহত।

হামলার ঘটনায়  একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।