কলকাতায় জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ব্যবহার ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগের তদন্তে সক্রিয় হয়েছে রাজ্য সরকারের বিশেষ কমিশন। শুক্রবার ইএম বাইপাস (EM Bypass) সংলগ্ন একটি ধাবা ও বেকারিকে কেন্দ্র করে তদন্তকারীদের তৎপরতা দেখা যায়। পুলিশের বড় বাহিনী নিয়ে এলাকায় গিয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট নির্মাণ এবং তার আশপাশের জমি পরীক্ষা করেন। জলাভূমি ভরাট করে ওই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি তৈরি করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন: শীতের কলকাতায় ভোজিনহা! মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিশ্বকাপার পাঠালেন বিশেষ উপহার
এই ঘটনায় অভিযোগকারী মনোজকুমার বর্মণের (Manojkumar Barman) দাবি, জমি ভরাটের বিষয়টি তিনি গত অগস্টেই কমিশনের নজরে এনেছিলেন। তাঁর অভিযোগে স্থানীয় তৃণমূলের এক প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধির নাম উঠে এসেছে। ওই ব্যক্তির প্রভাবেই জমি দখল ও নির্মাণের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শুক্রবারের পরিদর্শনে কমিশনের প্রতিনিধিরা জমির বিভিন্ন অংশের মাপজোখ করেন এবং নির্মাণের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই তদন্তে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ রয়েছে।
তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে জমির নথি ও সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জলাভূমির জমিতে বাণিজ্যিক নির্মাণের অনুমতি ছিল কি না, পরিবেশ সংক্রান্ত বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করার পাশাপাশি জমির বাস্তব পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করছে কমিশন।
অন্যদিকে কলেজের সম্পত্তি ব্যবহার নিয়েও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। হরিমোহন ঘোষ কলেজের সম্পত্তি ব্যবহার করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। কলেজের জমিতে নির্মিত একটি অডিটোরিয়াম বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। সেই সূত্রে প্রাপ্ত টাকার যথাযথ হিসাব রাখা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার এই বিষয়েই তদন্তে পদক্ষেপ করা হয়। কলেজের গভর্নিং বডির প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০ ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, JNU থেকে বরখাস্ত অধ্যাপক
এই মামলায় স্থানীয় কাউন্সিলর রঞ্জিত শীলকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে কিছু নথি ও তথ্য এসেছে বলে দাবি করা হলেও, সেগুলি থেকে কী সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কলেজের আয় কোথায় জমা পড়েছিল এবং অডিটোরিয়াম ভাড়া দিয়ে পাওয়া অর্থের হিসাব কীভাবে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কমিশন। বাইপাসের জমি সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি কলেজের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।















