পালাবদলের পর থেকেই কলকাতার জ্যোতি কলোনিতে পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কলোনিতে পাঁচ হাজার নাগরিকের বাস। দিনের পর দিনের পানীয় জল পাচ্ছেন না সেখানকার নাগরিকরা। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে এবার এই ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘকে চিঠি পাঠালেন মমতাপন্থী তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম (Samirul Islam)।
রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার শাখা হাই কমিশনারকে চিঠি লিখে জ্যোতি নগর কলোনির ভয়াবহ অবস্থার কথা জানিয়েছেন সামিরুল। কলকাতার বেলগাছিয়ার অন্তর্গত জ্যোতিনগর কলোনির হাজার হাজার বাসিন্দার প্রতি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিষয়টি চিঠিতে তুলে ধরেন তিনি।
সামিরুল চিঠিতে লিখেছেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ের পর থেকে প্রায় দুই মাস ধরে এই কলোনির প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা সরকারি পানীয় জল সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন। পাইপলাইনের জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং তা আর ঠিক করা হয়নি। কোনও সরকারি সহায়তা ছাড়াই দুই বা একটি সংস্থা এলাকার বাইরে থেকে জল ট্যাঙ্ক এনে সাময়িক ব্যবস্থা করছেন।তবে জল সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
চিঠিতে মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ আরও লেখেন, “শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং পরিবারগুলো তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য সীমিত ও অনিয়মিত পানীয় জলের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। পানীয় জলের পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজ্যে সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।বিজেপি নেতারা মনে করেন যে, ওই এলাকার বাসিন্দারা যেহেতু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এবং তাঁরা বিজেপিকে ভোট দেননি, তাই পানীয় জল পাওয়ার কোনো অধিকার তাঁদের নেই—এই কারণেই সেখানে জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, “স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও এর কোনও স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। সম্প্রতি আমি ওই কলোনির কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে দেখা করেছি ও কথা বলেছিলাম। তাদের কথাতেই স্পষ্ট নির্ভরযোগ্য পানীয় জল সরবরাহের দীর্ঘস্থায়ী অভাবের কারণে তাঁরা কতটা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।”
এর আগে জল সরবরাহ ( Water Supply) বন্ধ থাকার অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সামিরুল ইসলাম (Samirul Islam)। সামিরুলের দাবি, গত দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে জ্যোতিনগর কলোনির কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipality) কলগুলি কার্যত শুকনো। তাঁর অভিযোগ, কোনও প্রত্যন্ত এলাকা নয়, খোদ কলকাতা শহরের মধ্যে একটি এলাকাতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামিরুল স্পষ্ট করেই জানান, সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণেই তাঁদের জল সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।















