কলকাতায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হল। মস্তিষ্কের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অত্যাধুনিক এবং অত্যন্ত নির্ভুল ‘গামা নাইফ রেডিওসার্জারি’ (Gamma Knife Radiosurgery - GKRS) পরিষেবা শুরু করল ‘ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স কলকাতা’ (I-NK)।
ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স কলকাতায় চালু হল ‘গামা নাইফ রেডিওসার্জারি’
Sponsored

১০ অগাস্ট এখানে প্রথম সাফল্যজনক গামা নাইফ অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কাশ্মীরের এক তরুণ পিটুইটারি ম্যাক্রোএডিনোমা (Pituitary Macroadenoma)-য় আক্রান্ত ছিলেন। কনসালট্যান্ট নিউরোসার্জন ড. রাজেশ ভোঁসলে এবং আমেরিকা ও প্রাগের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে তাঁর চিকিৎসা সম্পন্ন হয়।
আরও পড়ুন: ICCR-এ উত্তম জন্মশতবর্ষের বিশেষ প্রদর্শনী 'উত্তম - দ্য মহানায়ক', নিবেদনে শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স
কী এই ‘গামা নাইফ রেডিওসার্জারি’? নামে 'নাইফ' বা ছুরি থাকলেও, এই পদ্ধতিতে শরীরের কোথাও কোনও কাটাছেঁড়া করা হয় না। এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আধুনিক 'স্টেরিওট্যাকটিক রেডিওসার্জারি' প্রযুক্তি। এতে মাথার সুস্থ অংশে বিন্দুমাত্র ক্ষতি না করে সরাসরি নির্দিষ্ট টিউমার বা অস্বাভাবিক কোষে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radiation) প্রয়োগ করা হয়।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন আইপিএস অফিসার নূপুর প্রসাদ, কে তিনি?
এতে অস্ত্রোপচারের ঝামেলা নেই, রক্তপাতও হয় না এবং রোগী চিকিৎসা শেষে দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে পারেন (Day-care basis)। ব্রেন টিউমার, ভাস্কুলার মালফরমেশন, ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া এমনকি নির্দিষ্ট কিছু মানসিক রোগের চিকিৎসাতেও এটি ব্যবহার করা হয়।
কলকাতায় এই প্রথম এমন উদ্যোগ নিয়ে ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রোফ. আর. পি. সেনগুপ্ত বলেন, "গামা নাইফ হলো ব্রেন টিউমারসহ অন্যান্য জটিল রোগের ক্ষেত্রে এক দিনের একটি অনন্য চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং শুধুমাত্র মস্তিষ্কের চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ থাকায় শহরের লাভজনক কর্পোরেট হাসপাতালগুলি এই প্রযুক্তি আনতে আগ্রহী হয়নি। দেশের প্রায় সব বড় শহরে এই সুবিধা থাকলে কলকাতা কেন পিছিয়ে থাকবে? আই-এন-কে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, তাই আমরাই এই অভাব দূর করার দায়িত্ব নিয়েছি।"
প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান প্রোফ. হৃষীকেশ কুমার জানান, এই প্রযুক্তির হাত ধরে কেয়ারের এক নতুন যুগ শুরু হল। প্রথাগত ওপেন-ব্রেন সার্জারি ছাড়াই অনেক জটিল রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে।
রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. অনুপম দত্ত এবং নিউরোসার্জন ড. পার্থ ঘোষ জানান, মস্তিষ্কের সংবেদনশীল স্থানে থাকা টিউমার বা ক্ষতিকারক কোষে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, যা রোগীর জীবনের গুণগত মান বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আই-এন-কে-তে এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার জটিল নিউরো রোগী এখন নিজেদের শহরের কাছেই বিশ্বমানের চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













