রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। একই সঙ্গে যে সমস্ত পরিবার এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারছে না, তাদের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা’ নামে একটি পৃথক রাজ্যভিত্তিক প্রকল্পেরও সূচনা করা হয়েছে। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে এই জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে রাজ্যের সমস্ত নাগরিককে একক স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনার যে প্রাথমিক আলোচনা ছিল, নতুন এই দুই স্তরীয় ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রক্রিয়াটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার—অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি মানুষ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রত্যক্ষ সুবিধা পাবেন। অন্য দিকে, এই তালিকার বাইরে থাকা বাকি প্রায় ৮০ লক্ষ পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষার আওতায় রাখতে রাজ্য সরকারের নিজস্ব ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা’র অধীনে আনা হচ্ছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সর্বজনীন আয়ুষ্মান প্রকল্পের কথা বলা হলেও, বাস্তবে দুই পৃথক প্রকল্প কার্যকর করায় প্রশাসনিক জটিলতা বাড়তে পারে। দুটি ভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা ও মান সমান রাখা যাবে কি না, তা নিয়েও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্য দিকে, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা প্রদান নিয়েও কিছু পরিকাঠামোগত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের ৬২৭টি সরকারি এবং ১২৪০টি বেসরকারি হাসপাতালে এই বিমার মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলির পক্ষ থেকে চিকিৎসার প্যাকেজ রেট বা আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। হাসপাতালগুলির ‘ক্যাটাগরি বি’ রেট চালুর দাবিটি সরকার বিবেচনা করে দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্যাকেজ রেট নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত চূড়ান্ত ঐকমত্যে না পৌঁছালে অতীতে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে যে ধরনের সমস্যা দেখা যেত, তা পুরোপুরি দূর করা কঠিন হতে পারে।

প্রশাসনিক এই কর্মসূচির পাশাপাশি সরকারের ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার সময় মুখ্যমন্ত্রী নানা ঐতিহাসিক ও প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গের অবতারণা করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অলিন্দেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই জোড়া প্রকল্প কতটা সহজে ও মসৃণ ভাবে পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারে, এখন সে দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহল।