পিতৃপক্ষের অবসানে মাতৃপক্ষের সূচনার সন্ধিক্ষণ মহালয়ায় সারারাতব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন মহানগরীতে। মা আসছেন, হাতে মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। সেজে উঠছে শহর। আগমনী বন্দনায় তৈরি হতে আগামী ৯ অক্টোবর শুক্রবার মহালয়ার ঠিক আগের দিন সন্ধ্যা ৭টা ১০ অক্টোবর (শনিবার) ভোর ৫টা পর্যন্ত কলকাতার নজরুল মঞ্চে মহালয়ার সূচনাকে স্বাগত জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে 'কিউরেটেড কালেক্টিভ এক্সপেরিয়েন্সেস' (Curated Collective Experiences) । অনুষ্ঠানের নাম 'আগমনী - মা আসছেন'।

দেবীপক্ষের প্রাক্কালে আয়োজিত রাতব্যাপী সঙ্গীতানুষ্ঠান যেখানে বাংলার জনপ্রিয় শিল্পীরা একত্রিত হয়ে সঙ্গীত, কবিতা, নৃত্য, লোকসংস্কৃতি, ছন্দ ও নস্টালজিয়ার এক অনন্য যাত্রায় দর্শকদের শামিল করবেন।আর এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে ভোরের আলোয় মহালয়া তিথির আগমনের মধ্য দিয়ে। প্রথাগত কনসার্টের গণ্ডি পেরিয়ে এই আয়োজন, দেবী শারদীয়ার আগমন ঘিরে থাকা সেই বিশেষ প্রতীক্ষা ও আবেগকে উদযাপন করে যার অপেক্ষায় সারা বছর অতিবাহিত করে বাঙালি।পুজো যতই এগিয়ে আসে, শহরজুড়ে মানুষের জেগে থাকার সেই পরিচিত ও প্রাণের অনুভূতিকে তুলে ধরতে এই বিশেষ অনুষ্ঠান দর্শকের মনে জায়গা করে নেবে বলেই আশাবাদী আয়োজকরা।

এবার একটু দেখে নেওয়া যাক অনুষ্ঠান সূচিতে কী কী থাকছে। শুধু সঙ্গীত নয় মহালয়ার প্রাক্কালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নৃত্য, ঐতিহ্য এবং নারীশক্তির উদযাপনে বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী ইন্দ্রাণী দত্ত এবং তাঁর সঙ্গে রাজনন্দিনী পাল 'আগমনী'-র মঞ্চে সৃজনশীল কোরিওগ্রাফি ও গল্পকথনের মাধ্যমে মা দুর্গার আগমনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক আবহকে এক অনন্য পরিবেশনায় রূপ দেবেন। সঙ্গীত ও কবিতার মিলন ঘটবে গায়িকা জয়তী চক্রবর্তী এবং কবি-গীতিকার শ্রীজাতর উপস্থাপনার মেলবন্ধনে।তাঁরা বাংলা গান, কবিতা, স্মৃতিকে এক আবেগঘন পরিবেশনায় তুলে ধরবেন।


জয় সরকার ও লোপামুদ্রা মিত্র 'আগমনী'-তে নিয়ে আসছেন 'জয়-লোপা এক্সপ্রেস'। এটি তাঁদের স্বতন্ত্র প্রযোজনা। পরিচিত চলের বাইরে গিয়ে এই বিশেষ প্রয়োজনাটি শ্রোতাদের হৃদয়ে অন্য ভাবে জায়গা করে নেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

বাংলার লোকসংস্কৃতির প্রাণবন্ত রূপ সুরের ছন্দে দর্শকের সামনে তুলে ধরতে তৈরি 'দোহার'। শিল্পীরা লোকসঙ্গীতের পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের বাংলার শিকড়ের সন্ধানে নিয়ে যাবেন, এ কথা অনস্বীকার্য। আগমনী অনুষ্ঠানে রাঘব চট্টোপাধ্যায় তাঁর দুই কন্যা আনন্দী ও আহিরীকে নিয়ে প্রজন্মের মেলবন্ধন ও সুরের মূর্ছনায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবেন সুর সাগরে।

নাচ গান কবিতার পাশাপাশ তাল ও ছন্দের জাদুতে ভরপুর এক প্রাণবন্ত ফিউশনে এদিনের অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটাবেন পন্ডিত বিক্রম ঘোষ।

এই অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে ‘কিউরেটেড কালেক্টিভ এক্সপেরিয়েন্সেস’-এর রক্তিম পাল চৌধুরী বলেন, "মহালয়ার আগের রাতের সেই নস্টালজিয়া বা স্মৃতিকাতরতাকে ফিরিয়ে আনা এবং তাকে এক নতুন রূপ দেওয়াই হলো ‘আগমনী’-র মূল উদ্দেশ্য। আমরা চাই বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ একত্রিত হোন, সঙ্গীত ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে রাত জাগুন এবং মহালয়ার প্রথম ভোরকে একসঙ্গে স্বাগত জানান। এটি কেবল একটি কনসার্ট নয়; এটি এমন এক আবেগকে নতুন করে অনুভব করার প্রয়াস, যার সঙ্গে বাঙালিরা বেড়ে উঠেছে।"















