ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম বিখ্যাত তারকা অরিজিৎ সিং। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ গোটা বিশ্ব। কিন্তু খ্যাতির মধ্যগগনে থেকেও মাটির কাছাকাছি থাকা এবং প্রতিনিয়ত সংগীতের রেওয়াজ ও সাধনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও জুড়ি নেই। এবার অরিজিতের এই সুর-সাধনা এবং সেতার প্রীতির এক অজানা দিক তুলে ধরলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সংগীত পরিচালক কাজি ফুয়াদ। বন্ধুত্বের শুরুটা হয়েছিল ‘ফেম গুরুকুল’-এর মঞ্চ থেকে। বন্ধুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ কাজি জানান, গানের প্রতি অরিজিতের এই আত্মত্যাগ সত্যিই বিরল। কাজি এ-ও জানান, অরিজিতের লড়াই করার মানসিকতা তাঁকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতার লোভ মদের নেশার চেয়েও ভয়ঙ্কর! বিস্ফোরক মুরলী

‘বিগ বস’-এর ঘরে বন্ধুর প্রতি ভালবাসার কথা বলতে গিয়ে কাজি বলেন, অরিজিৎ কেবল একজন অসাধারণ গায়কই নন, একজন দারুণ বাদ্যযন্ত্র শিল্পীও বটে। বিশেষ করে সেতারের প্রতি তাঁর টান অপরিসীম। কাজির কথায়, “ও যখন সেতার নিয়ে বসে, তখন সময়ের জ্ঞান থাকে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ও সেতার বাজিয়ে যেতে পারে। বাইরের কোলাহল বা খ্যাতির আলো কোনও কিছুই অরিজিৎকে তাঁর সাধনা থেকে বিচ্যুত করতে পারে না।” গান বা সুরের গভীরে কতটা ডুবে থাকলে একজন শিল্পী এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা রেওয়াজ করতে পারেন, অরিজিৎ তারই প্রমাণ।

আরও পড়ুন: বাংলার বুকে DRDO-র মেগা প্রকল্প! কতটা বদলে যাবে রাজ্যের শিল্প মানচিত্র?

বলিউড ও টলিউডের একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দেওয়ার পরও অরিজিৎ সিং সবসময় লাইমলাইট থেকে দূরে থাকতেই ভালোবাসেন। নিজের গ্রাম জিয়াগঞ্জে কাটানো সাধারণ জীবনযাপন এবং সেখানে তৈরি করা নিজস্ব স্টুডিওতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোই তাঁর প্রথম পছন্দ। কাজি ফুয়াদের এই বক্তব্য আরও একবার প্রমাণ করল যে, অরিজিতের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং সুরের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা।

আরও পড়ুন: এক চুমুকেই বাজিমাত! এই ‘ককটেল’ পানে উদ্বেগ থাকবে দূরে, মন হবে ফুরফুরে

২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’ জিতে রাতারাতি পরিচিতি পেয়েছিলেন কাশ্মীরের গায়ক কাজি তৌকীর। রূপরেখা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যৌথ ভাবে সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছিলেন তিনি। বহু বছর পর আবার ‘বিগ বস’-এর মঞ্চে ফিরে দর্শকের মন জয় করছেন তিনি। শো-এর সঞ্চালক সলমন খানও কাজি তৌকীর প্রশংসা করেন।

তবে বন্ধুর প্রতি কাজির এই অকপট প্রশংসা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিজিৎ-ভক্তদের মন কেড়েছে। অনুরাগীদের মতে, একজন প্রকৃত শিল্পীর লক্ষণই হল প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখা এবং সাধনা করা, যা অরিজিৎ প্রতি মুহূর্তে করে চলেছেন।