দেশভাগের পটভূমিতে তৈরি এক আবেগঘন ছবি। পরিচালনায় রাজকুমার সন্তোষী (Rajkumar Santoshi)। অভিনয়ে সানি দেওল, প্রীতি জিন্টা। ছবিটি ঘিরে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে। আশা করা যায়, বক্স অফিসে রচিত হবে নতুন ইতিহাস। লিখলেন অংশুমান চক্রবর্তী।

প্রায় ২৫ বছর আগে। ২০০১ সালের ১৫ জুন, মুক্তি পেয়েছিল বলিউডের দুটো বড় বাজেটের ছবি। আমির খান অভিনীত ‘লগান’ এবং সানি দেওল (Sunny Deol) অভিনীত ‘গদর এক প্রেম কথা’। দেখা গিয়েছিল মহা টক্কর। দুটি ছবিই বক্স অফিসে ফাটিয়ে ব্যবসা করেছিল। সম্মুখ সমরে আমির এবং সানি দুজনেই তুমুল সাফল্য পেয়েছিলেন। দর্শকেরা ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছিলেন। মুক্তির আগে অবশ্য চাপা টেনশন ছিল দুই তারকার মধ্যে। কিছু সংবাদমাধ্যম তাঁদের লড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফাঁদে পা দেননি তাঁরা। ব্যস্ত ছিলেন নিজেদের ছবির প্রচারে। বজায় রেখেছিলেন পরস্পরের প্রতি সৌজন্য, শ্রদ্ধা। তার কয়েক বছর আগে, ‘দামিনী’ ছবিতে একটি গানের দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন আমির খান। সেই ছবিতেই একজন আইনজীবীর চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন সানি দেওল। সেখানেই ছিল তাঁর বিখ্যাত ‘ঢাই কিলো কা হাত’ সংলাপটি। পেয়েছিলেন সেরা সহ-অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার। অবশ্য ছবিতে তাঁরা স্ক্রিন শেয়ার করেননি। আগে বা পরবর্তী সময়েও দুই তারকা একসঙ্গে যুক্ত হননি কোনও ছবির সঙ্গে। দর্শকদের মধ্যে কিন্তু একটা প্রত্যাশা ছিলই। এতদিনে তা পূরণ হতে চলেছে। আজ, ১৪ অগাস্ট, স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে মুক্তি পাচ্ছে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’। রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি দেওল। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন আমির খান (Amir Khan)। তাঁর আমির খান প্রোডাকশনসের ব্যানারে। এইভাবেই তাঁরা জুড়ে গেলেন একটি ছবির সঙ্গে। 

১৫০ কোটি বাজেটের ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ দেশভাগের পটভূমিতে তৈরি এক আবেগঘন ছবি। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মহাজির মুসলমান পরিবার, যারা দেশভাগের পর লাহোরে এসে একটি পরিত্যক্ত হিন্দু বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু এক প্রবীণ হিন্দু মহিলা সেই বাড়ি ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেন। এর পরই শুরু হয় দুই পরিবারের টানাপোড়েন, যা ধীরে ধীরে মানবিক সম্পর্ক ও সহাবস্থানের এক গভীর কাহিনিতে রূপ নেয়। বরেণ্য নাট্যকার আসগর ওয়াজাহাত-এর বিখ্যাত নাটক ‘জিস লাহোর নাই ভেখ্যা, ও জামিয়া ই নাই’ অবলম্বনে নির্মিত এই ছবি দেশভাগের মতো ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়ের মধ্যেও মানবতা, সহমর্মিতা ও আশার বার্তা তুলে ধরবে।২০২৩ সালের অক্টোবরে ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছিল চিত্রগ্রহণ। শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে।চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন সন্তোষ সিভান। সম্পাদনা করেছেন শ্যাম সালগাঁওকর। প্রাথমিকভাবে ২০২৫-এর ২৩ জানুয়ারি ছবিটি মুক্তির জন্য নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ এবং কয়েকটি দৃশ্যের পুনঃচিত্রায়ণের কারণে মুক্তি শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।এই ছবির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর ফের একসঙ্গে কাজ করছেন সানি দেওল ও রাজকুমার সন্তোষী। এর আগে তাঁদের জুটি ‘ঘায়েল’, ‘দামিনী’ এবং ‘ঘাতক’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছে। আমির খান ও রাজকুমার সন্তোষী ‘দামিনী’র পাশাপাশি একসঙ্গে কাজ করেছেন ‘আন্দাজ আপনা আপনা’ ছবিতে। 

‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ছবিটি নিয়ে সানি দেওল সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বহু বছর ধরেই এটা নিয়ে কাজ চলছিল। অনেক অভিনেতার কাছেই গিয়েছিল গল্পটি। কিন্তু নানা কারণে ছবিটি তৈরি হয়নি। ‘গদর ২’-এর সাফল্যের পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। ছবিতে সানি দেওল অভিনয় করেছেন সিকান্দার মির্জা চরিত্রে। প্রীতি জিন্টাকে দেখা যাবে সিকান্দারের স্ত্রী হামিদা মির্জা চরিত্রে। এই ছবির মাধ্যমে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি। দুর্গাবতী দেবীর চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন শাবানা আজমি। এছাড়াও আছেন করণ দেওল, আলি ফজল, অভিমন্যু সিং, খুশি হাজারে এবং কানিকা কাপুর। ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন এ আর রহমান। গানের কথা লিখেছেন জাভেদ আখতার। গেয়েছেন অনুরাধা পাড়োয়াল, সোনু নিগম প্রমুখ। সানি দেওল, প্রীতি জিন্টা-সহ ছবির অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন শহরে ঘুরে জোরকদমে ছবির প্রচার করেছেন। আমির খান, সানি দেওল এবং প্রীতি জিন্টা ছবিটি নিয়ে কথা বলার জন্য গিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চনের ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ শোয়ে। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন থেকে কোনও কাট ছাড়াই ছবিটি মুক্তির ছাড়পত্র পেয়েছে। কিছুদিন আগেই সানি দেওল তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সেই খবর শেয়ার করেছেন। সবমিলিয়ে মানবতা ও ভালোবাসার উপর নির্মিত ছবিটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আশা করা যায়, বক্স অফিসে রচিত হবে নতুন ইতিহাস। আবারও সাফল্যের কাপে চুমুক দেবেন আমির খান, সানি দেওল, রাজকুমার সন্তোষী।