বাঙালির ম্যাটিনি আইডলের জন্মশতবর্ষ ঘিরে একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে বাংলা বিনোদন জগতের। তবে এবার উত্তম কুমারের শততম জন্মবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সেই মর্মে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে (Prosenjit Chatterjee) চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। আর্টিস্টস ফোরামের (WBMPAF ) তরফ থেকে সে চিঠি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। 

প্রায় সাড়ে চার দশক পেরিয়েও উত্তম-হীন বাংলা বিনোদন জগতে আজও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক 'মহানায়ক'। তাঁর চলন-বলন, ম্যানারিজম থেকে রোমান্টিসিজমের নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। ভুবন ভোলানো হাসি হোক বা গাম্ভীর্যপূর্ণ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, উত্তম কুমার যে অদ্বিতীয় তা বোধহয় বর্তমানের বাংলার সদ্যোজাত শিশুরও অজানিত নয়। সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে টলি পাড়ার বিশেষ ভাবনা থাকবে এটা খুব স্বাভাবিক। সম্প্রতি নবান্নে গিয়ে টলিউডের 'জ্যেষ্ঠপুত্র' প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক দফা আলোচনাও সেরেছেন। এরপরই রাজ্য সরকারের ভাবনার কথা জানিয়ে চিঠি পাঠালেন শুভেন্দু। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে লেখা, “বাংলা সিনেমার এই গৌরবময় ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত যে, এই বছরটি বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত মহানায়ক উত্তমকুমারের ১০০তম জন্মজয়ন্তীর বছর। বাঙালির মনন, শিল্প ও চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরভাস্বর এবং অদ্বিতীয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই বছর আমরা সকলকে নিয়ে অত্যন্ত বৃহৎ ও বর্ণাঢ্য পরিসরে মহানায়কের এই জন্মজয়ন্তী উদযাপন করব।এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করে তুলতে সমগ্র বাংলা চলচ্চিত্র জগতের শিল্পী, কলাকুশলী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় ভূমিকা একান্তভাবে কাম্য। আপনাদের সহযোগিতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণেই মহানায়কের প্রতি সমগ্র বাংলা চলচ্চিত্র জগতের শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রকৃত অর্থে পূর্ণতা লাভ করবে।” 

বাংলা সিনেজগতের প্রবীণ শিল্পীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামের তরফে রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই 'শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০২৬' অনুষ্ঠানকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর্টিস্টস ফোরামের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে তাঁর মহতী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।