নতুন বছর পড়তে না পড়তেই ভারাক্রান্ত সোশ্যাল মিডিয়ার মন। সর্বদা হাসিমুখে থাকা মেয়েটা চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভেবেছে এবং তাঁকে সফল করতে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছে। কিন্তু এটা কি তাঁর প্রাপ্য ছিল? কী তাঁর অপরাধ? বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির পাশাপাশি বাপেরবাড়ির প্রতিও কর্তব্য পালন করা? কন্যাসন্তান বলে বিয়ের পর সব দায় না এড়িয়ে গর্ভধারিনীর যত্ন নেওয়া, খেয়াল রাখা? নাকি স্বামীর অত্যাচার প্রাথমিকভাবে মেনে নিয়ে শুধু এটাই ভেবে যাওয়া যে একদিন সবটা ঠিক হয়ে যাবে? দেবলীনা নন্দীর (Debolina Nandi) আত্মহত্যা করার চেষ্টার খবর প্রকাশ্যে আসার পর এই একগুচ্ছ প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে সমাজের বুকে।
মায়ের প্রতি কর্তব্য পালন করায় মারধর!দেবলীনার উপর অত্যাচার নিয়ে বিস্ফোরক গায়িকার মা
Sponsored


সমাজ মাধ্যমে বরাবরের সক্রিয় দেবলীনা নিজের প্রোফাইলে একটি ভিডিওবার্তায় বলে গেছেন তাঁর জীবনের যন্ত্রণার কথা। হাজার চেষ্টা করেও স্বামীর ভালবাসা না পাওয়া, বিয়ে হয়ে গেছে বলে মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে প্রিয়জনদের বারবার চাপ সৃষ্টি করা, আর দিনের পর দিন এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অবশেষে হার মানার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও শোনা গেছে সেই ভিডিও বার্তায়। এরপরই ব্রেকিং নিউজ হয়ে তাঁর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকার ছবি অবাক করে দিয়েছে বিনোদন জগত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে। সোশাল মিডিয়াময় রঙিন দাম্পত্যযাপনের ছবি ভিডিও শেয়ার করার মধ্যে কোথাও গিয়ে অন্তরালের কষ্টগুলো যেন বারবার প্রকট হয়ে ওঠে, এমনটাই মনে করেন মনোবিদরা। তাঁর যে কতটা সঠিক তার জলজ্যান্ত প্রমাণ দেবলীনা নন্দীর ঘটনা। শিল্পীর মাকে নাকি দেখতে ভালো নয় ভদ্র সমাজে তার সঙ্গে বেরোনো যায় না।, তাই 'মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করতেই হবে! হয় মা, নয় সংসার...' এমনটাই চাপ সৃষ্টি করা হতো পাইলট স্বামী প্রবাহর তরফে। বাপের বাড়িতে একটু বেশি সময় কাটালে শ্বশুরের হুমকি, , 'তুমি কি শুধু এ বাড়িতে শুতে আসবে নাকি? ওসব চলবে না।' এতকিছুর পরেও মেয়েটা নিজের কষ্ট সবার আড়ালে রেখে ছিল। ভেবেছিল ভালবাসা হয়তো সবটা বদলে দিতে পারে। কিন্তু এ যুগে দাঁড়িয়ে দাম্পত্যে বোধহয় শুধু ভালবাসাটুকুই শেষ কথা নয়। তা না হলে সুশিক্ষিত পাইলট স্বামী কী করে নিজের শাশুড়ি সম্পর্কে স্ত্রীকে এত খারাপ কথা বলতে পারেন ? এত মানসিক নির্যাতন করতে পারেন? দেবলীনার শ্বশুর বাড়ি এবং জামাইয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন গায়িকার মা।

দেবলীনা নন্দীর মা জানান, গত আগস্ট মাসেই শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল তাঁর মেয়েকে। শুধু তাই নয়, শাশুড়িই 'সেপারেশনে থাকা'র নিদান দিয়েছিলেন। তাঁর মেয়েকে প্রচুর মারধর করা হত। কিন্তু তবুও কোনওদিন পুলিশে অভিযোগ জানাতে চাননি তিনি। কারণ শিল্পী মনে করতেন লোক জানাজানি হলে সমাজ তাঁকে খারাপ ভাববে। সত্যি প্রশ্ন জাগে, 'খারাপ' কাকে বলে? নিজের কষ্টের কথা বাইরে বললে সেটা খারাপ, আর সেই কষ্টের কারণ হয়ে যারা প্রত্যেকটা মুহূর্তে দগ্ধে দগ্ধে চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়, ভদ্রলোকের মুখোশ পরা সেই মানুষগুলো খারাপ নয়? সমাজের কথা চিন্তা করেই দেবলীনা ভালবেসে বিয়ে করা স্বামী- সংসার ছেড়ে আসতে ভয় পেতেন। তাই হয়তো আর সহ্য করতে না পেরে জীবন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তাঁর মা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মেয়েকে মারধর করা হতো। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে 'ভিখিরির বাচ্চা' বলে কটুক্তি করা হয়েছে। কানায় ভেঙে পড়েছেন গায়িকার মা। সুস্থ হলে প্রবাহর সঙ্গে আর সংসার করবে সেই সিদ্ধান্ত দেবলীনা নিজেই নেবেন। গত দুদিন ধরে যে ঘটনাকে ঘিরে বা যাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এত লেখালেখি এত মন্তব্য এত আলোচনা, সেই অভিযুক্ত দেবলীনার স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কোনও পাত্তাই নেই। না গেছেন হাসপাতলে, না দিয়েছেন কোনও প্রতিক্রিয়া। ২০২৬ সালে পা দিলাম আমরা। শুধুমাত্র মেয়ে বলে আর কতদিন এসব সহ্য করে যেতে হবে? প্রশ্নের উত্তরটা এখনও অধরা।
-
-
-
-
-
-
-
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from বিনোদন
View All →
“গান প্লেলিস্ট থেকে মুছে ফেলতে পারেন, কিন্তু মত বদলাব না!” অনুরাগীর পোস্টের মোক্ষম জবাব অরিজিতের
4d ago

‘নেতা-মন্ত্রীরা নিজেদের ভগবান মনে করছেন? ছাত্র-বিক্ষোভে লাঠিচার্জে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অরিজিৎ
5d ago

আগামী বছরেই ছাদনাতলায় দেব? দাদাগিরির মঞ্চে বড় ঘোষণা সুপারস্টারের
Jul 19

৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বাংলার জয়জয়কার, সেরা ছবি ‘চালচিত্র এখন’, সেরা অভিনেতার শিরোপা কার্তিক-মাম্মুটির
Jul 18

কর্কটরোগ কেড়ে নিল টোটা রায়চৌধুরীর বাবাকে
Jul 18







