সিনেদুনিয়ায় যেন শোকের ছায়া চলছে। গত বুধবার মা কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন রানি মুখোপাধ্যায়। সোনালি যুগের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়কে হারিয়েছে টলিউড। আর সম্প্রতি পিতৃবিয়োগের খবর জানালেন শতাব্দী রায়। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বাবার চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। শোকের এই আবহেই আবেগঘন গলায় অভিনেত্রী বলেন, “১৫ দিনে কী থেকে যে কী হয়ে গেল...”। তাঁর এই আকস্মিক ক্ষতিতে গভীরভাবে শোকস্তব্ধ শতাব্দী এবং তাঁর পরিবার।

আরও পড়ুন: ১৩ কোটি ভোটারের অধিকার ফেরতে হবে: জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-র

জানা গিয়েছে, শতাব্দী রায়ের বাবা শৈলেন্দ্রনাথ রায় বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭। অভিনেত্রী জানান, তাঁর বাবা একেবারেই সুস্থ ছিলেন। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপও ছিল না। কিন্তু মাত্র পনেরো দিনে কী থেকে যে কী হয়ে গেল, কিছুতেই ভাবতে পারছেন না শতাব্দী। তবে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের সমস্যা দেখা দিলে তখন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তখনই পরীক্ষানিরীক্ষার পর ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। আর তারপরই এই অঘটন। 

আরও পড়ুন: বলিউড বাদশার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সে টান, এক বছরে লোকসান ২৫০০ কোটি!

বাবার মৃত্যুর খবর আসতেই ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভেতরের যন্ত্রণা চেপে রাখতে পারেননি শতাব্দী। তিনি জানান, মাত্র ১৫ দিন আগেও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এত দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যাবে এবং বাবা তাঁকে ছেড়ে চিরতরে চলে যাবেন, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।

শতাব্দী রায়ের ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর বাবার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে শতাব্দী যখন টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী হয়ে উঠছিলেন, তখন তাঁর বাবা সবসময় ছায়ার মতো তাঁর পাশে ছিলেন। পরবর্তীতে অভিনয় জগত ছেড়ে যখন তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং বীরভূমের সাংসদ নির্বাচিত হন, তখনও বাবার আশীর্বাদ ছিল তাঁর পথ চলার শক্তি।

আরও পড়ুন: ভারতে ফুটবল সংস্কৃতি নেই! কলকাতায় আসার আগেই বিস্ফোরক ব্রাজিল কোচ

শতাব্দী রায়ের বাবার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন টলিউডের বহু তারকা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। অভিনেত্রীর এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। বর্তমানে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও শুটিংয়ের ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন অভিনেত্রী। পিতৃবিয়োগের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যে তাঁর বেশ কিছুটা সময় লাগবে, তা বলাই বাহুল্য।