টলিপাড়ায় 'ব্যান' কালচার নিয়ে সমস্যা যেন কাটতেই চাইছে না। একদিকে যখন শিল্পী কলাকুশলীদের সুরক্ষার জন্য মঙ্গলবার দিনভর মিটিং শেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে আর্টিস্টস ফোরাম (WBMPAF), তখন ঐ একই দিনে স্টুডিও পাড়ায় 'নিষিদ্ধ' অভিনেতা-পরিচালকদের কাজে ফেরানো নিয়ে তুঙ্গে সংঘাত। একদিকে অভিনেতা প্রযোজক দেব (Dev) এবং অন্যদিকে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)। মধ্যস্থতা করতে পারবেন কি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosrnjit Chatterjee), হাতে সময় ৭২ ঘণ্টা!
আউটডোরে শুটিং চলাকালীন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের পথে বাংলা বিনোদন জগৎ। তৈরি হচ্ছে SOP, সিনেমা সিরিয়ালের ক্ষেত্রে ইনসিওরেন্সের প্রস্তাবও এসেছে। পাশাপাশি ম্যাজিক মোমেন্টসের সঙ্গে আর কোনও কাজ করা হবে না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিল্পী কলাকুশলীরা সকলে। মঙ্গলবার বিকেলে টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে ঠিক যখন এই কথাগুলো জানাচ্ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)- রঞ্জিত মল্লিকরা (Ranjit Mallick), তখন ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন দেব (Dev)। তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি টলিপাড়ার 'বয়কট সংস্কৃতি' নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।গত বছর ফেডারেশনের (FCTWEI) বিরুদ্ধে ১৩ জন পরিচালক মামলা দায়েরের পরই অলিখিতভাবে একাংশের বিরুদ্ধে ‘নিষিদ্ধ খাঁড়া’ নেমে এসেছিল। মঙ্গলের বৈঠকে তা নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান 'রঘু ডাকাত' অভিনেতা। দেবের কথায়, “কাজ না করতে পারাও একটা কষ্ট। আমার মনে হয়, যাদের কাজ নেই, এই কষ্টটা তাঁরাই বুঝতে পারবেন একমাত্র। যে সমস্ত শিল্পীরা নিষিদ্ধ রয়েছেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে কীভাবে ফেরানো হবে, সেটা বুম্বাদাই জানেন। তবে আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁদের প্রত্যেকের উপর থেকে ‘ব্যান’ উঠে যাবে।”
এরপরই পাল্টা স্বরূপ (Swarup Biswas) বলেন, কথাটা বলা সহজ কিন্তু করে দেখানো কঠিন। ফেডারেশন সভাপতি টলিউড সুপারস্টারের নাম না করেই বলেন, “আরেকটি বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কিছু কিছু শিল্পী কাজ করতে পারছেন না। সেই বিষয়ে আমাদের একজন অভিনেতা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর জ্ঞাতার্থে জানাই, আমাদের কলাকুশলীরা শেষ একবছর তিন মাস ধরে নিজেদের অধিকার রক্ষার্থে লড়ে যাচ্ছে। তাঁর উচিত ছিল, একবছর আগে এসে এই বিষয়টি জানা। আমরা যদি কাজের অধিকার না পাই, নূন্যতম কলাকুশলী নিতে না পারি, নূন্যতম মজুরী না পাই, আমাদের লড়াই ছিল এগুলোর বিরুদ্ধে। একবছর দশ দিনের মাথায় মহামান্য আদালত ওদের মামলা খারিজ করে দিয়েছে। তাই হঠাৎ করে লোকজন প্রস্তাব করলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যান উঠিয়ে দেবেন, সেটা যদি আজ থেকে ১ বছর তিন মাস আগে এসে উনি আলোচনা করতেন, তাহলে ভালো লাগত। কলাকুশলীদের ভালো লাগত। তাহলে মনে হত, তিনি শুধুমাত্র একজন আর্টিস্টকে নিয়ে ভাবছেন না, সমস্ত টেকনিশিয়ানসদের নিয়েও ভাবছেন। তাহলে কলাকুশলীরাও খুশি হত। টেকনিশিয়ানদের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হয়েছিল, সেই ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে আদালতে লড়াই করতে হয়েছে। সেই টাকাটাও বেচে যেত। আমাদের কাজের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য হাই কোর্টে যে যে আবেদনগুলি গিয়েছিল, তাহলে সেগুলিও হত না। তাই বলা সহজ কিন্তু কাজ করে দেখানো এবং কলাকুশলীদের পাশে থাকা অনেক বেশি জরুরি। আজকের এই বিতর্কের আবহে আমি আর কিছু বলব না।”
প্রসেনজিৎ আবশ্য এই নিয়ে আলাদা করে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে মঙ্গলবার রাতের দিকে দেব (Dev) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমার ছবি পোস্ট করে 'ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক'কে ট্যাগ করেন। যাঁর জন্য এত কাণ্ড সেই অনির্বাণ ভট্টাচার্যের তরফ থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
-
-
-
-
-
-
-
















