সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় মা মাসি কিচেনের জুটি ভাঙল। প্রয়াত ‘মা-মাসি কিচেন’-এর প্রিয় দাদু, জ্যোতিপ্রসাদ বসু।  ৪৭ বছরের সঙ্গীকে রেখে চিরতরে বিদায় নিলেন জ্যোতিপ্রকাশ। আর এই খবরে শোকের ছায়া নেট ভুবনে।

 

 

সাধারণ একটি মধ্যবিত্ত বাড়ি থেকেই চলত তাঁদের এই পথচলা। ছোট্ট রান্নাঘর, ঘরোয়া উপকরণ আর পরিচিত বাঙালি রান্না—এই ছিল ‘মা-মাসি কিচেন’-এর মূল আকর্ষণ। সেখানে কোনও কৃত্রিমতা ছিল না।   

 

দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের পেজ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরেই সিওপিডি-তে আক্রান্ত ছিলেন জ্যোতিপ্রসাদবাবু। তবে অসুস্থতার মধ্যেও তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছাপ থাকত ভিডিওগুলিতে। ‘মা-মাসি কিচেন’-এর জনপ্রিয়তার পিছনে তাই শুধু খাবার ছিল না, ছিল একটা পরিবারের অনুভূতি।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই পরিচিত মুখ জ্যোতিপ্রসাদ বসু ও তাঁর স্ত্রী।বসু দম্পতির পেজে ৯ লাখের উপর ফলোয়ার্স, আর সেই পেজে নানা ধরনের রান্না করতেন বৃদ্ধা, যেখানে দেখা যেত তাঁর বৃদ্ধ স্বামী স্ত্রীর কাছে আবদার করে কিছু খেতে চাইতেন, স্ত্রী সেই রান্না করে স্বামীকে খাওয়াতেন।তাদের ভিডিওতে কোথাও যেন দাদু দিদার ভালোবাসার স্পর্শ থাকত,যার কারণে তাদের এক একটি ভিডিওতে লাখ লাখ ভিউয়ার্স।সেই মানুষটি আজ আর নেই।

 

মা মাসি কিচেনের পেজে লেখা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার আমার সমস্ত বন্ধুদের খুবই দুঃখের সাথে জানাচ্ছি গত ১৩ই আগস্ট আমার ৪৭ বছরের সঙ্গী জ্যোতিপ্রসাদ বসু চিরতরে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। বেশ কিছু বছর ধরেই তিনি সি ও পি ডি তে ভুগছিলেন। গত সাতই আগস্ট হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। আপনাদের জানাতে একটু দেরি হয়ে গেল এই কিছুদিন জানানোর মত অবস্থায় আমি ছিলাম না।

 

জ্যোতিপ্রকাশকে ছাড়া মা মাসি কিচেনের কথা ভাবতেই পারতেন না অনুরাগীরা। ,তিনি আজ না ফেরার দেশে।আর কেউ মিষ্টি হেসে বাহারি মেনুর আবদার করে খাওয়াতে বলবে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা তাদের সেই অনুভূতির কথাই তুলে ধরেছেন।