দেশের আমলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির (Civil Service Training Centre) করুণ দশার ছবি তুলে ধরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে (BJP Government) তীব্র আক্রমণ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra)। আমলাদের দক্ষতার মানোন্নয়নে ঘোষিত ‘মিশন কর্মযোগী’র আড়ম্বরপূর্ণ প্রচারের আড়ালে দেশের সিভিল সার্ভিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির চরম বেহাল দশা ও হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ছবি উন্মোচিত হল সংসদে। ধরা পড়ল কেন্দ্রের ব্যর্থতা। মন্ত্রকের রিপোর্টই বলছে, সর্বভারতীয় স্তরে সরকারি অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টি এখনও অ্যাক্রেডিটেশন বা ন্যূনতম মানের অনুমোদনের মুখই দেখতে পায়নি। আর বাকি যে ২১০টি প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে, তার মধ্যে ১৮৫টিই ৪-স্টার পেতে ব্যর্থ হয়ে ৩-স্টার বা তার নীচে পড়ে রয়েছে।
সিভিল সার্ভিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের করুণ দশা, মহুয়ার প্রশ্নে হোঁচট বিজেপি সরকারের
Sponsored

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়ার তীক্ষ্ণ প্রশ্নের উত্তরে লোকসভায় কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের দেওয়া তথ্যে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার এই কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ্যে এসেছে। জাতীয় সিভিল সার্ভিস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট মানদণ্ড ২.০-এর রূপায়ণ, প্রশিক্ষণের গুণমান, ব্যর্থ কেন্দ্রগুলির বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা এবং স্বাধীন কোনও তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড-পার্টি দিয়ে কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না— তা জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন মহুয়া। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রীতিমতো হোঁচট খেয়েছে কেন্দ্র। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া জবাবে কোনও স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নের স্পষ্ট উল্লেখ মেলেনি। তার বদলে জাতীয় স্তরের কর্মশালা ও অভ্যন্তরীণ পরামর্শের অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা স্পষ্ট। মূল্যায়নের নির্দেশক ৫৯টি থেকে কমিয়ে ৪৩টি করা সত্ত্বেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চার বা পাঁচ তারকা রেটিং অর্জনে চরম ব্যর্থ। ৩৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠান ৪-স্টার বা তার বেশি রেটিং পেয়েছে, যা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কাঠামোর দুর্বলতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে ব্যর্থ বা নিম্নমানের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সর্বজনীন মান নিশ্চিত করতে কী পরিকল্পনা রয়েছে—সে বিষয়েও মন্ত্রী কোনও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি। ‘কোয়ালিটি ইম্প্রুভমেন্ট প্ল্যান’-এর মতো কিছু কেতাবি কৌশলের আড়ালে জবাবদিহিতার মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত। আমলাতন্ত্রের আধুনিকীকরণের ঢাকঢোল পিটিয়ে যে ‘মিশন কর্মযোগী’ চালু করা হয়েছিল, কোর্স ডিজাইন, শিক্ষকদের যোগ্যতা ও পরিকাঠামোর মতো মৌলিক স্তম্ভগুলোই দুর্বল হয়ে পড়ল সরকারি ইনস্টিটিউটগুলোতে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from গুরুত্বপূর্ণ
View All →
সারোগেসি আবেদনে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাচাই করতে পারেন না ম্যাজিস্ট্রেট, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের
5d ago

ফের ধস গৌরীকুণ্ডের কাছে, সাময়িকভাবে স্থগিত কেদারনাথ যাত্রা
6d ago

কাটমানি- সিন্ডিকেট রুখতে চালু হওয়া টোল ফ্রি নম্বরে অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে অভিযোগের পাহাড়!
Jul 30

বিহারের পর অসমেও নিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, কী ভাবছে শুভেন্দুর সরকার
Jul 28

ক্যাম্পাসে 'নিখোঁজ' পোস্টার! NEET-এর প্রশ্নফাঁসে অবশেষে মুখ খুললেন এক 'ইডিয়েট ফারহান'
Jul 23







