প্রায় দু দশক পর কলকাতায় এসে সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) সাম্প্রতিককালের একাধিক ইস্যু নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলনকে বাংলাদেশ ও নেপালের ছাত্র আন্দোলনের মতো মনে হয়েছিল তাঁর। এবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Deepke)। স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন, অন্য কোনও আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের প্রতিবাদকে এক সারিতে ফেললে হবে না। 

নিট প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে সিজেপির আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ছাত্র যুবরা একত্রিত হয়ে সমর্থন করেছিল এই আন্দোলন যার ফলে চাপের মুখে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই ঘটনার পর যখন বিজেপি সরকার বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে সেই সময়ে ডবল ইঞ্জিন রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে এসে বাংলাদেশের 'বিতর্কিত' সাহিত্যিক বলেন,"ছাত্ররা কোথাও জমায়েত হলেই বা আন্দোলন করলেই যে সব সময় খুব ভালো পরিণতি হয়, তা নয়। বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন আমাদের বোকা বানিয়েছে। কারণ আমরা ভেবেছিলাম ছাত্ররা কোটা পদ্ধতি বাতিল চায়। শেখ হাসিনাও তাদের দাবি মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন হল। পরে দেখলাম এর পেছনে উগ্রপন্থীরা ছিল। এর ফল বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়নি।" তসলিমার মন্তব্যের বিরোধিতা করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অভিজিৎ। তিনি জানান, "বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের সঙ্গে দিল্লির যন্তর মন্তরের তুলনা করা হচ্ছে শুধু আমাদের বদনাম করার জন্য। আমরা একরকম না। 'ককরোচ জনতা পার্টি’র দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর দায়িত্ব বেড়ে গিয়েছে। শিগগিরই সংগঠনের পরিসর বাড়ানো হবে।” 

দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার ডিগ্রি প্রকাশ্যে আনার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া অভিজিৎ জানিয়েছেন, অবিলম্বে নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলে ফের বড়সড় আন্দোলনে নামা হবে। তার কথায় বিজেপি সরকারের আসল রূপ এখন দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। জেন জি আর চুপ করে বসে থাকবে না।