পুজোর আগেই বনদফতরের কর্মীদের মুখে চওড়া হাসি, দুর্গাপুজোর বিশেষ উপহার ঘোষণা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর 'একটি গাছ মায়ের নামে' ভাবনাকে সামনে রেখে পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে একই দিনে রাজ্যব্যাপী ৫০ লক্ষ চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে 'সবুজ স্বাধীনতা' কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানিয়ে দেন আগামী অক্টোবর মাস থেকে বনদফতরের রেঞ্জার, বিট অফিসার, ফরেস্ট গার্ড এবং বন সহায়কদের বেতন ও ভাতা বাড়তে চলেছে। এদিনের অনুষ্ঠানে দেশীয় নারকেল গাছের চারা লাগানোর পাশাপাশি পরিবেশরক্ষার বার্তাও দেন শুভেন্দু।
'সবুজ স্বাধীনতা' কর্মসূচির সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর, বনকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়েও বড় ঘোষণা
Sponsored


মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঐতিহাসিক উদ্যোগ 'সবুজ স্বাধীনতা'। কলকাতার মোহরকুঞ্জ থেকে শুরু হলো সবুজায়নের এক নতুন অধ্যায়। রাজ্যে ৪০ হাজার ২১৮ টি স্থানে একদিনে ৫০ লক্ষ চারাগাছ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে রোপণ করা হচ্ছে ১০০ টি করে চারাগাছ। ১২১টি পুরসভা ও সাতটি পুরনিগমের প্রতিটি ওয়ার্ডেও এই সবুজ বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ছে। ভিবিজি রামজি প্রকল্পের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ থেকে শুরু করে আগামী দুবছর জিও ট্যাগিং ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে তৈরি হবে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ। এদিন অনুষ্ঠানের সূচনায় নারকেল গাছের চারা লাগান মুখ্যমন্ত্রী। যেভাবে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে তা যদি আটকাতে হয় সেক্ষেত্রে এই ধরনের গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করান তিনি। এই বর্ষার মরশুমে রাজ্যে দশ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথাও বলেন শুভেন্দু। এদিন বনের সুরক্ষা ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় দিনরাত যে কর্মীরা কাজ করে চলেছেন তাদেরকে সুখবর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা রাজ্যে বর্তমানে কর্মরত ৫০০ জন রেঞ্জারের মাসিক বেতন পাঁচ হাজার টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে। ৫০০ জন বিট অফিসারের ক্ষেত্রেও একই পরিমান বেতন বাড়বে। ডক্টরের ৬৫০ জন ফরেস্ট গার্ডের বেতন ও এক ধাক্কায় প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা হয়েছে। ১৫ সহায়ক এতদিন ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পেতেন এবার তা ১২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। দুর্গাপুজোর মাস থেকেই বর্ধিত বেতন ও ভাতা কাঠামো কার্যকর করতে চলেছে রাজ্য সরকার (Govt of West Bengal) ।
এদিনের অনুষ্ঠানে সবুজায়নের বার্তা দিয়ে বৃক্ষরোপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শহরাঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আকাশপথে যাতায়াতের সময় কলকাতা দিকে তাকালে সবুজের ঘাটতি চোখে পড়ে। তাই মহানগরীর ফুসফুসকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণ বাড়াতে হবে। বিল্ডারদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের সময় অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জায়গার সবুজায়নের জন্য নির্দিষ্ট করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন নারকেল ও সুপারি গাছ বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় প্রাকৃতিক লাইটনিং অ্যারেস্টার (Lightning Arrester) হিসেবে কাজ করে। শহরের বহু ভবনে কৃত্রিম 'লাইটনিং আরেস্টার' থাকলেও সেগুলো নিষ্ক্রিয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ, দমকল PWD এবং KMC-কে পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে দেখা যায় তাঁকে।

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













