"হ্যালো, আমি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পায়নি। বলতে পারেন আমার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে কিনা?", "সব তথ্য দেওয়ার পরও কেন আমার অ্যাপ্লিকেশন এপ্রুভ দেখাচ্ছে না?" - কাটমানি দুর্নীতি আটকাতে চালু হওয়া টোল ফ্রি নম্বরে এভাবেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মহিলাদের ফোন পেয়ে হতবাক সরকারি আধিকারিকরা। জেলায় জেলায় বাড়তে থাকা সিন্ডিকেট রাজ ও কাটমানি সংক্রান্ত দুর্নীতি রুখতে মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের তরফে চারটি টোল ফ্রি নম্বর চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার থেকে নবান্নে (Nabanna) শুরু হয়ে গেছে কাজ। গত একদিনে অন্তত ২০০০ অভিযোগ জমা পড়েছে যার বেশিরভাগটাই অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি নম্বরে ফোন করে অন্নপূর্ণা যোজনা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মহিলারা।
কাটমানি- সিন্ডিকেট রুখতে চালু হওয়া টোল ফ্রি নম্বরে অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে অভিযোগের পাহাড়!
Sponsored

রাজ্যে বিজেপি সরকার (BJP Government) ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স নীতি'র কথা জানিয়েছিল। সেইমতো একের পর এক পদক্ষেপ করতে দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (CM Suvendu Adhikari)। সিন্ডিকেটরাজ, কাটমানি কালচার, অবৈধভাবে রোড ট্যাক্স আদায় এবং চোলাইয়ের ঠেক নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ যাতে ফোন করে সরকারকে সেই বিষয়ে জানাতে পারেনি তার জন্য চারটি টোল ফ্রি নম্বর চালু হয়েছে। এক-একটি নম্বরের জন্য পাঁচটি করে রিসিভার রয়েছে। অর্থাৎ ফোন আসছে ২০টি রিসিভারে। কুড়িজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিযোগ নথিভুক্ত করার। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল যত না দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ এসেছে তার থেকে ঢের বেশি অভিযোগ অন্নপূর্ণা যোজনা না পাওয়া নিয়ে। বিজেপি ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ৩০০০ করে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হবে মহিলাদের। জুন এবং জুলাই মাসে দু কিস্তিতে টাকা দেওয়া হলেও রাজ্যের বিরাট সংখ্যক মহিলাদের অভিযোগ তাঁরা প্রায় বারো পাতার ফর্ম ফিল আপ করে, এত তথ্য দিয়েও গত দু'মাসে একটি টাকাও পাননি। বাড়ছে ক্ষোভ। যে ফোনে কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগ জানাবার কথা, সেখানে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে অন্নপূর্ণার যোজনা টাকা কবে পাব? মাথায় হাত সরকারি আধিকারিকদের।কেউ আবার রীতিমতো ঝাঁঝালো প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন, ‘আমার স্ত্রীর অন্নপূর্ণা ঢুকল না কেন?' শুধু তাই নয়, বার্ধক্য ভাতা- বিধবা ভাতা সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও ফোন এসেছে। কারোর প্রশ্ন বেশি ইলেকট্রিক বিল নিয়ে, কেউ আবার পাশের বাড়ির জমি বিবাদের সমস্যাও তুলে ধরেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেরবার অবস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













