বড়সড় প্রশ্নের মুখে প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা প্রকল্প। ১৫ কোটি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে। হুঁশই নেই কেন্দ্রের। তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই)-এর এক প্রশ্নের জবাবে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেই এই প্রকল্প চালু করেন। ১২ বছর ধরে এই প্রকল্প কী অবস্থায় রয়েছে খোঁজই নেয়নি কেন্দ্র। ১ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৯ কোটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে এক-চতুর্থাংশই নিষ্ক্রিয়।
দেশের মানুষকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার আওতায় আনতে এই প্রকল্প চালু হয়। যাতে দেশের অর্থব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্তকরণ হয়। কিন্তু কোথায় কী! সম্প্রতি আরটিআই থেকে যা জানা যাচ্ছে, তাতে প্রতি চারটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে একটি নিষ্ক্রিয়। মোট ৫৯ কোটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ১৫ কোটি ৩৬ লক্ষের বেশি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়। প্রায় ৫ কোটি ৭২ লক্ষের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই নেই!
নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। এখানে প্রায় ৩ কোটি ২৩ লক্ষ অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এরপর রয়েছে বিহার, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং মহারাষ্ট্র। এর মধ্যে বিহারে ১ কোটি ৫৯ লক্ষ, মধ্যপ্রদেশে ১ কোটি ২ লক্ষ ও পশ্চিমবঙ্গে নিষ্ক্রিয় জনধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ কোটি ২ লক্ষের বেশি। মহারাষ্ট্রে তা ৯৭ লক্ষ ৯৪ হাজার। এর মধ্যে জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টে বেশিরভাগে ১০০ টাকারও কম ব্যালেন্স রয়েছে এই তথ্যও মিলেছে।
জনধন অ্যাকাউন্ট নিয়ে তথ্যের অধিকার আইনে আবেদন জানিয়েছিলেন চন্দ্রশেখর গৌড় নামে এক সমাজকর্মী। তারই জবাব দিয়েছে অর্থমন্ত্রকের অধীনস্থ আর্থিক পরিষেবা বিভাগ (ডিএফএস)। উঠে আসে এসমস্ত অবাক করা তথ্য।
দেশের সমস্ত পরিবারের কাছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এর মূল লক্ষ্য। সেসব শিকেয় উঠেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, লাখ লাখ গরিব মানুষ সঞ্চয় করে ব্যাঙ্কে টাকা রাখবে, এর জন্য এত টাকা কই? বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি সব মিলিয়ে দিন আনা দিন খাওয়াই দায়। তাতে আবার সঞ্চয়! ফলত বিপুল সংখ্যক নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট নিয়ে কেন্দ্র সরকার কী ব্যবস্থা নেয় এখন তাই-ই দেখার।
















