বাজার থেকে যে সাবান, শ্যাম্পু বা টুথপেস্টটি আপনি রোজ কিনছেন, তা কি সম্পূর্ণ নিরামিষ? নাকি তার ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে কোন প্রাণীজ উপাদান বা চর্বি? এতদিন সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে প্যাকেটের গায়ে লেখা জটিল রাসায়নিকের নাম পড়ে তা বোঝা অসম্ভব ছিল। কিন্তু উপভোক্তাদের এই দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে প্রশাসন। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রসাধনী ও বাথরুম সামগ্রীর ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী নিয়ম আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্যের মোড়কে উল্লেখ থাকবে পণ্যটি নিরামিষ না আমিষ। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক।   

আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়লেন আল্লু-দীপিকা! মুক্তির আগেই গিনেস বুকে ৮০০ কোটির ‘রাকা’

সাবান, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ থেকে শুরু করে লিপস্টিক বা ক্রিমের মতো রূপচর্চার সামগ্রী—সব কিছুর প্যাকেটের ওপরেই এবার স্পষ্ট করে দিতে হবে সেটি নিরামিষ (Vegetarian) নাকি আমিষ (Non-Vegetarian) উপাদান দিয়ে তৈরি। সম্প্রতি ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস, ২০১১’ সংশোধন করেছে উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক। সোমবার থেকে চালু এই নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ উদ্ভিদজাত বা প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি পণ্যের প্যাকেটে থাকবে একটি সবুজ গোল চিহ্ন। অন্যদিকে, যদি পণ্যটিতে সামান্যতম প্রাণীজ চর্বি বা কোন উপাদান থাকে, তবে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে লাল বা বাদামী চিহ্ন। এর ফলে দোকানে গিয়ে ক্রেতাকে আর উপাদানের তালিকা (Ingredients) নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। এক পলক দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: টাটা গোষ্ঠীকে রক্ষা করা জরুরি: চেয়ারম্যান পদ নিয়ে জটিলতায় মন্তব্য পাওয়ারের

কিন্তু কেন এই নিয়মের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল? বাজারে উপলব্ধ বহু নামী-দামী ব্র্যান্ডের সাবান বা শ্যাম্পুতে ফেনা তৈরি করতে কিংবা টুথপেস্টে মসৃণতা আনতে অনেক সময় ‘গ্লিসারিন’ বা ‘জেলাটিন’ ব্যবহার করা হয়। এই উপাদানগুলি উদ্ভিদ থেকেও পাওয়া যায়, আবার প্রাণীজ চর্বি থেকেও তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষের পক্ষে প্যাকেটের লেখা দেখে সেই উৎস ধরা অসম্ভব। তবে কোনও সংস্থা ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ ও মোটা অঙ্কের জরিমানাও হতে পারে। এই নতুন আইনের ফলে ক্রেতারা খুব সহজেই পণ্যটি আমিষ না নিরামিষ তা যাচাই করে নিতে পারবেন।