উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে স্কুলের ভিতরেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক শিক্ষিকার। সোমবার ঘটনাটি ঘটে স্কুলে পড়ুয়াদের সামনেই। পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজেকেও গুলি করেন অভিযুক্ত যুবক। দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিক্ষিকার নাম নিশাত ফতিমা। বয়স ২৬ বছর। তিনি সদর কোতোয়ালি এলাকার হিদায়তনগরের বাসিন্দা এবং প্রায় এক বছর ধরে শহরের চিলড্রেনস অ্যাকাডেমি স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন। অভিযুক্তের নাম মহম্মদ সৌদ, বয়স ২৮ বছর।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে দুর্যোগের ভ্রুকুটি, মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা
পুলিশের দাবি, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সৌদ ওই স্কুলে ফতিমার সঙ্গে দেখা করতে যান। স্কুলের করিডরে দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা চলাকালীন ব্যাগ থেকে হঠাৎ আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ফতিমাকে গুলি করেন তিনি। এরপর নিজেকেও গুলি করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর স্কুল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত স্কুলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং পড়ুয়াদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনে। পরে ফরেন্সিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেন। লখিমপুর খেরির এসএসপি খ্যাতি গর্গ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তের তদারকি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফতিমা ও সৌদ দীর্ঘদিন ধরে একে অপরকে চিনতেন এবং নিয়মিত যোগাযোগও ছিল। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দু’জনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, প্রত্যক্ষদর্শী এবং দু’পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন: Shocking: মিঠুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রঞ্জিত-প্রসেনজিৎ-চিরঞ্জিত
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যোগীরাজ্যে সামাজিক পরিস্থিতি কোন অন্ধকারে? স্কুলের করিডর, সামনে পড়ুয়ারা, আর সেই পড়ুয়াদের চোখের সামনেই একজন শিক্ষিকাকে গুলি করে হত্যা। পরে অভিযুক্তের আত্মহত্যা। ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি খুনের ঘটনা নয়; এর অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ে একটি গোটা সমাজের মানসিক পরিসরে। কারণ স্কুল এমন একটি জায়গা, যেখানে শিশুরা নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শেখে। সেই জায়গাতেই যদি বন্দুক ঢুকে পড়ে, তবে প্রশ্ন ওঠে—একটি রাজ্যের সামাজিক কাঠামোয় কোথায় গিয়ে ভাঙন ধরেছে? অপরাধের পেছনে অসামাজিক পরিবেশ, অস্ত্রের সহজলভ্যতা, আইনের প্রতি ভয় কমে যাওয়া, প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রশাসনিক নজরদারিও এই মুহূর্তে প্রশ্নের মুখে। এমন ঘটনার পরে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অস্ত্র কোথা থেকে এল? অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে কোনও অভিযোগ বা সতর্কসংকেত ছিল কি না? স্কুলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কী অবস্থা ছিল? পুলিশ-প্রশাসনের কাছে কোনও পূর্বতথ্য পৌঁছেছিল কি? তদন্তে যদি কোনও গাফিলতি সামনে আসে, তার দায় কার? উত্তরপ্রদেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে প্রশ্ন করতে হবে আরও গভীরে: এমন একটা পরিবেশ কীভাবে তৈরি হল যেখানে স্কুলের করিডরেও বন্দুকের শব্দ পৌঁছে যায়?
















