প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজধানী থেকে থেকে সারাদেশ গর্জে উঠেছিল পড়ুয়াদের বিক্ষোভ। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল হয় বিহার, উত্তর প্রদেশ। এবার পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠল মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPSC)-এর একাধিক প্রতিযোগিতামূলক ঘিরে। পুণেতে (Pune) বিক্ষোভ দেখালেন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তাঁরা।
বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে একের পর এক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। বিহারে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) পরীক্ষা বাতিলের দাবি থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া। এবার সেই তালিকায় নাম উঠেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) মহাযুতি (Mahayuti) সরকারেরও (বিজেপি, শিবসেনা ও এনসিপি)।
মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, আবার কোথাও পরীক্ষা পরিচালনা ও ফল প্রকাশের পদ্ধতি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সোমবার পুণের ওমকারেশ্বর মন্দির (Omkareshwar Temple) এলাকা থেকে মিছিল শুরু করে পরীক্ষার্থীরা। পরে সেই মিছিল পৌঁছয় জেলা কালেক্টরেটের সামনে। সেখানে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখায় তাঁরা। আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরাও যোগ দেন। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (Nationalist Congress Party) শরদ পওয়ার (Sharad Pawar), কংগ্রেস (Congress) এবং শিবসেনার (Shiv Sena) তরফে উদ্ধব ঠাকরের (Uddhav Thackeray) পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানানো হয়।
বিক্ষোভে কালো পোশাক পরে হাজির ছিলেন বিধায়ক রোহিত পাওয়ার (Rohit Pawar) । এদিন তাঁর নিশানায় ছিল এমপিএসসি-র ভূমিকা। সম্প্রতি এক্সাইজ এমপিএসসি (ডিপার্টমেন্টাল) পরীক্ষা ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রোহিতের দাবি, শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, গোটা ব্যবস্থার ভিতরেই গণ্ডগোলের অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকী এক উচ্চপদস্থ যুগ্ম সচিব পর্যায়ের আধিকারিকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার নম্বর দেওয়ার পদ্ধতি ফাঁস করার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রোহিত আরও বলেন, 'চাকরির আশায় হাজার হাজার তরুণ-তরুণী দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কমিশনেরই একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।' তাঁর কথায়, এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং রাজ্যের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।
















