Site Logo

১৮ বছর পর হাতে এল অফার লেটার! অবসরের বয়স পেরিয়ে মজিদ পেলেন ‘হতাশার’ চিঠি

EBBS Desk·
১৮ বছর পর হাতে এল অফার লেটার! অবসরের বয়স পেরিয়ে মজিদ পেলেন ‘হতাশার’ চিঠি

সরকারি চাকরির স্বপ্ন বুনেছিলেন দুই দশক আগে। পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় জায়গাও করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের চিঠি যখন বাড়ির চৌকাঠে এসে পৌঁছাল, ততদিনে জীবনের সব হিসাবনিকেশ বদলে গিয়েছে। বয়স পেরিয়ে গিয়েছে ষাটের কোটা। যে চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল যৌবনে, সেই চাকরির চিঠি হাতে এল অবসরের বয়স পার হওয়ার পর!

প্রশাসনিক চরম উদাসীনতার এমনই এক নজিরবিহীন ও বিচিত্র ঘটনার সাক্ষী থাকল কেরলের মলপ্পুরম জেলা। আব্দুল মজিদ নামের এক ব্যক্তির জীবনে সরকারি চাকরির স্বপ্ন এভাবেই এক লহমায় পরিণত হল চরম প্রহসনে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৫ সালে। সেই সময় কেরল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অধীনে পার্ট টাইম জুনিয়র শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেছিলেন আব্দুল মজিদ। যথাসময়ে পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতার প্রমাণও দেন তিনি, মেধা তালিকায় জ্বলজ্বল করছিল তাঁর নাম। কিন্তু নিয়মমাফিক পরীক্ষার পর যেখানে দ্রুত নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার কথা, সেখানে কেটে গেল মাসের পর মাস। দেখতে দেখতে ২০০৮ সালে ওই পদের মেধা তালিকার মেয়াদও ফুরিয়ে যায়। কিন্তু কমিশনের তরফ থেকে কোনও নিয়োগপত্র মজিদের কাছে পৌঁছায়নি।

দিন বদলেছে, বছর ঘুরেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একসময় সরকারি চাকরির আশা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে বেঁচে থাকার অন্য পথ বেছে নিয়েছিলেন মজিদ। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর বাড়ির ঠিকানায় ডাকবিভাগের মাধ্যমে এসে পৌঁছায় একটি খাম। চিঠি খুলে কার্যত আকাশ থেকে পড়েন বর্তমানে ৬১ বছর বয়সী ওই প্রৌঢ়। চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। দেখা যায়, দীর্ঘ ১৮ বছর আগে যে পদের জন্য তিনি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, এত বছর পর সেই চাকরির নিয়োগপত্র পাঠিয়েছে কমিশন! ১৮ বছর ধরে চলা এক দীর্ঘ প্রশাসনিক ঘুম ভাঙার পর যখন এই চিঠি পাঠানো হল, ততদিনে আব্দুল মজিদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার বয়সও পার হয়ে গিয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার প্রায় দুই দশক পর এই জয়েনিং লেটার হাতে পেয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মজিদ। তিনি বলেন, এর মানে দাঁড়াল গত ১৮ বছর ধরে ওই পদের আসনটি শূন্যই পড়ে ছিল। অথচ এত বছর পর এই অফার লেটার আসায় আমার সারাজীবনের একটা বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। এখন আমার বয়সসীমা পার হয়ে গিয়েছে, ফলে নিজের ন্যায্য পাওনা এই চাকরিতে যোগ দেওয়ার আর কোনও আইনি সুযোগ আমার নেই।

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেরলের এই প্রৌঢ়ের এমন করুণ পরিণতি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশের প্রশাসনিক ও আইনি মহলে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর লাল ফিতের ফাঁসে কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়, আব্দুল মজিদের এই খামখেয়ালি চিঠি যেন আরও একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

আরও পড়ুন- ফর্ম জমার আগেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা! কারা পেলেন সুবিধা? তালিকা নিয়ে কাঠগড়ায় বিজেপি

_

_

Sponsored

Sranchi In Article

_

_

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from দেশ

View All →