আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন। নয়া দিল্লিতে সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। তার প্রাক্কালে ১১ সেপ্টেম্বর আয়োজিত হতে চলেছে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির ( Vladimir Putin) পুতিনের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এই প্রসঙ্গে মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, মোদি-পুতিন ( Modi-Putin) বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় পরমাণু সহযোগিতা, প্রস্তাবিত ‘সুখোই এসইউ-৫৭’( SU-57) এবং রাশিয়ার (Russia) অশোধিত তেলের উপর মার্কিন শুল্ক আরোপ ও নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, ভারতের হাতে মার্কিন F-35A যুদ্ধবিমান তুলে দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেবে নয়াদিল্লি?
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমেরিকা সফরের সময় ভারতের কাছে F-35A যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এর পরেই রাশিয়া আরও বড় প্রস্তাব নিয়ে ভারতের সামনে হাজির হয়। ২০২৫ সালের মার্চে মস্কোর তরফে SU-57-এর যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সোর্স কোড দেওয়ার বিষয়েও রাশিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে, F-35 A নিয়ে ভারতের সামনে কিছু কৌশলগত প্রশ্নও রয়েছে। যুদ্ধবিমানটির নির্মাতা লকহিড মার্টিন প্রযুক্তির পূর্ণ হস্তান্তরে কতটা রাজি হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ‘এন্ড ইউজ মনিটরিং’ ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিমান কেনার পর তার ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা কতটা থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারতীয় বায়ুসেনার রুশ যুদ্ধবিমান ব্যবহারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও মস্কোর পক্ষে যেতে পারে। মিগ-২১, মিগ-২৭, মিগ-২৯ থেকে শুরু করে সুখোই-৩০ এমকেআই—বহু বছর ধরে রুশ নকশার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আসছে ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে SU-57 -কে খাপ খাওয়ানো তুলনামূলক ভাবে সহজ হতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিষয়, রাশিয়ার প্রস্তাব অনুযায়ী প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সোর্স কোড হাতে এলে ভারতীয় অস্ত্র ও সেন্সরকে যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির স্বাধীনতা বাড়তে পারে। দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং অন্যান্য যুদ্ধ-প্রযুক্তি SU-57-এর সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবে কতটা প্রযুক্তি হস্তান্তর হবে এবং সেই প্রযুক্তির পরিধি কী হবে, তা নির্ভর করবে ভারত-রাশিয়ার চূড়ান্ত চুক্তির উপর।
অর্থাৎ, পুতিনের এই ভারত সফর শুধু ব্রিক্স সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রতিরক্ষা থেকে পরমাণু শক্তি, বাণিজ্য থেকে রাশিয়ার তেল—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পরবর্তী দিক নির্ধারণে শুক্রবারের মোদী-পুতিন বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
















