ধর্মীয় কারণে কেউ জাতীয় গান না গাইলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ হওয়া উচিত নয়। এমনটাই বললেন দেশের শীর্ষ আদালত। ‘বন্দে মাতরম’-এর কতগুলি স্তবক গাওয়া হবে, সেই বিতর্কে না ঢুকে নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতাকেই সামনে রাখল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার টিএম কৃষ্ণের দায়ের করা মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ধর্মীয় কারণে কেউ জাতীয় গান না গাইলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে ১৯৮৬ সালের ‘বিজয় ইমানুয়েল’ মামলার রায় মেনে চলার প্রত্যাশাও জানিয়েছে আদালত।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ নাকি নির্দিষ্ট কয়েকটি স্তবক। কোনটি গাওয়া হবে, সেই প্রশ্নে আদালত সিদ্ধান্ত দিতে যাচ্ছে না। বরং ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে গানটির সঙ্গে যুক্ত শাস্তিমূলক বিধান নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে প্রভাবিত করছে কি না, সেটিই খতিয়ে দেখা হবে। ধর্মীয় কারণে গানটি গাইতে আপত্তি জানানো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘বিজয় ইমানুয়েল’ মামলায় স্বীকৃত ধর্মাচরণের স্বাধীনতার নীতি প্রযোজ্য কি না, সেই প্রশ্নেই মূলত আদালতের নজর।
কেন্দ্রের আনা ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-কে চ্যালেঞ্জ করেই এই মামলা। ওই সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’-কেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে ‘জনগণমন’-এর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে শাস্তির বিধান নিয়েই আপত্তি তুলেছেন মামলাকারী কন্নড় গায়ক টিএম কৃষ্ণ। তাঁর বক্তব্য, গানের শেষের কয়েকটি স্তবকে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতীর মতো হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। ফলে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ ওই অংশ গাইতে না চাইলে তাঁকে বাধ্য করা সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মাচরণের স্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী।
এই অবস্থানেই মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত বলেছে, ‘বন্দে মাতরম’ দুই স্তবক গাওয়া হবে না ছয় স্তবক সেটি আদালতের বিচার্য বিষয় নয়। প্রশ্ন হল, ধর্মীয় কারণে গানটি না গাওয়া কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘বিজয় ইমানুয়েল’ মামলায় স্বীকৃত ধর্মাচরণের স্বাধীনতার অধিকার কার্যকর হবে কি না। ডিভিশন বেঞ্চের সাফ কথা, “আমরা আশা করব, বিজয় ইমানুয়েল মামলার রায় মেনে চলা হবে।” বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব চেয়েছে বেঞ্চ। অর্থাৎ, আপাতত চূড়ান্ত রায় নয়; কেন্দ্রের বক্তব্য পাওয়ার পরই মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
















