ইচ্ছে আর কঠোর জেদ থাকলে যে কোনও প্রতিকূলতাকেই জয় করা সম্ভব, তা আরও একবার প্রমাণ করে দেখাল মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের এক সরকারি স্কুলের ছাত্র ওম চৌকসে (Om Chouksey)। কীভাবে দারিদ্র্যকে হারিয়ে স্বপ্নের শিখরে পৌঁছানো যায় তা দেখাল ওম। কোন পেশাদার কোচিং ছাড়াই প্রথম চেষ্টায় দেশের তিন-তিনটি কঠিনতম সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা—NEET, JEE Main এবং CUET—উত্তীর্ণ হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে। 

আরও পড়ুন: পুজোর অনুদান সরাসরি কমিটির ব্যাঙ্কে! নয়া নিয়মে বিপাকে বহু উদ্যোক্তা

জবলপুরের মডেল হাই স্কুলের ঠিক বাইরেই ফুটপাথে টেবিল পেতে স্কুল ও ট্রাভেল ব্যাগ বিক্রি করেন ওমের বাবা রমেশ চৌকসে। সেই সামান্য আয়েই কোনরকমে চলে সংসার। ওম ছোটবেলা থেকেই জানতেন তাঁর পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা কতটা। তাই নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কষ্ট লাঘব করতে প্রতিদিন সকালে দোকানে হাত লাগাতেন। দোকান সাজিয়ে দিয়ে যেতেন স্কুলে, আবার স্কুল ছুটির পর ফিরে আসতেন বাবাকে সাহায্য করতে। রাতে দোকান গুটিয়ে বাড়ি ফিরে শুরু হত ওমের নিজের লড়াই। 

আরও পড়ুন: চোরাচালানের করিডর, তবু ‘নজরদারি’তেই ফাঁক ধূপগুড়ি স্টেশনে

ওম যে অত্যন্ত প্রতিভাবান, তার প্রমাণ তিনি আগেও দিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশ বোর্ড (MP Board)-এর দশম এবং দ্বাদশ—উভয় শ্রেণীর পরীক্ষাতেই রাজ্যের মেধাতালিকায় (Merit List) প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। 

আজকের দিনে যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বড় বড় কোচিং সেন্টারে পড়েও পরীক্ষায় বসার সাহস পায় না অনেকে, সেখানে ওম সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় বাজিমাত করেছেন। তাঁর কথায়, “সাফল্যের জন্য কোনও শর্টকাট নেই। শুধু মুখস্থ করার চেয়ে বিষয়গুলো গভীরভাবে বুঝে নেওয়া এবং নিয়মিত রিভিশন করাই ছিল আমার আসল কৌশল।” ৭২০ নম্বরের NEET পরীক্ষায় ৫২১ নম্বর তুলে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি। 

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই পাহাড়ে খুশির খবর! সিকিমের চিড়িয়াখানায় জন্ম নিল ৬টি খুদে রেড পান্ডা

ছেলের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না ফুটপাথের ব্যাগ বিক্রেতা বাবা। ওমের এই জয় প্রমাণ করে দিল—শত প্রতিকূলতা আর অভাবের অন্ধকারও মেধার তীব্র আলোকে কোনদিন চেপে রাখতে পারে না। ওম আজ দেশের লক্ষ লক্ষ সুবিধাবঞ্চিত ও পরিশ্রমী পড়ুয়াদের কাছে এক নতুন প্রেরণার নাম।