উত্তরপ্রদেশের পর এ বার আর এক বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশেও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে নামল স্কুলপড়ুয়ারা। কোনও রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ছাড়াই নিজেদের অধিকার রক্ষায় সরাসরি প্রশাসনের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে তারা। পড়ুয়াদের এই জোরালো প্রতিবাদের মুখে কার্যত পিছু হটে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব।
বাসভাড়া বৃদ্ধি এবং শহরের স্কুল দূরে স্থানান্তরের মতো পৃথক বিষয়কে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রদেশের একাধিক প্রান্তে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম প্রতিবাদটি দানা বাঁধে বিদিশা জেলার সিরোঞ্জে। স্থানীয় কন্যা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রীদের যাতায়াতের বেসরকারি বাসভাড়া হঠাৎ ১০-১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে তারা। গত ১২ অগস্ট সিরোঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে জমায়েত হয়ে স্থানীয় বিধায়কের হস্তক্ষেপ দাবি করে ছাত্রীরা। তাদের বক্তব্য, বর্ধিত ভাড়ার কারণে বহু দরিদ্র পরিবারের ছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মহকুমা শাসক ও পুলিশ প্রশাসন আসরে নামে। শেষ পর্যন্ত বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর ছাত্রীদের পুরনো ভাড়ার হারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্য দিকে, উজ্জয়িনীতে ক্ষোভের কারণ ছিল স্কুল স্থানান্তর সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশ। শহরের সরাফা, মহাকাল ময়দান, মহারাজবাড়া ও জয়সিংহপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ৬টি স্কুল-সহ মোট ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শহর থেকে প্রায় ৬ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দৌড়খেড়ির সন্দীপনি বিদ্যালয়ে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় আড়াই হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরই প্রতিবাদে গত ১৪ অগাস্ট সরাফা স্কুলের তিন শতাধিক ছাত্রী উজ্জয়িনী জেলাশাসকের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। ছাত্রীদের বক্তব্য, বর্তমান স্কুলগুলি শহরের মূল সড়কের উপর হওয়ায় যাতায়াত নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। কিন্তু শহরের বাইরে দুর্গম এলাকায় স্কুল চলে গেলে নিরাপত্তা ও যাতায়াত খরচ—উভয় দিক থেকেই বিপাকে পড়তে হবে তাদের। পড়ুয়াদের এই অনড় অবস্থানের পর খোদ মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে স্কুল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, কোনও দলীয় সমর্থন ছাড়াই সাধারণ স্কুলপড়ুয়াদের এই ধারাবাহিক প্রতিরোধ প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিল।
















