ভারতীয় শেয়ার বাজারে আবারও নেমে এল নজিরবিহীন ধস। লক্ষ্মীবারে ফের মাথায় হাত লগ্নিকারীদের। সারাদিন বাজারের পতনের কারণে কয়েক কোটি হারালেন লগ্নিকারীরা। আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সেনসেক্স ও নিফটি সূচকের খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য বিশ্ব বাজারে খনিজ তেলের মূল্যবৃদ্ধিই দায়ী, যার জেরে একদিনেই লগ্নিকারীরা হারালেন প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ!
আরও পড়ুন: ছক ভাঙা লেখার স্বীকৃতি, সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি
এ দিন ১,০৪৫.৪৬ পয়েন্টের পতন হয়েছে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই)-এ। শতাংশের নিরিখে যেটা ১.৪৪। ফলে, সেনসেক্স থামে ৭১,৫৯৩.২৪ পয়েন্টে। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেও (এনএসই)। এ দিন বাজার বন্ধের সময় ২২,২৩১.৮০ পয়েন্টে নেমে আসে নিফটি-৫০। পতনের পরিমাণ ১.৬৪ শতাংশ। এমনকি নিফটি স্মলক্যাপ-১০০ এবং নিফটি মিডক্যাপ ১০০-র সূচক কমেছে এক শতাংশ। লক্ষ্মীবারে কোনও সংস্থার স্টকই সবুজ রেখা স্পর্শ করতে পারেনি। একমাত্র ব্যতিক্রম তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন সংস্থার শেয়ার।
আরও পড়ুন: নেতৃত্ব নিয়ে সংঘাত? NCPI-র সুদীপের নেতৃত্বাধীন বৈঠকে হাজির মাত্র ১০! অনুপস্থিত কাকলি- জুন-সায়নীরা
বাজারের এই ‘ফকির’ দশা হওয়ার পিছনে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ:
আরবিআই-এর রেপো রেট বৃদ্ধি: প্রায় ৪ বছর পর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করেছে। সেই সঙ্গে পলিসিগত অবস্থান বদলে ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটনিং’-এর ইঙ্গিত দেওয়ায় লগ্নিকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
অপরিশোধিত তেলের লাগামহীন দাম: মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ থেকে ১০৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করায় এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা? উত্তর কলকাতায় উধাও বিপ্লবী যতীন দাসের জন্মভিটের স্মারক ফলক
এর পাশাপাশি বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) লাগাতার শেয়ার বিক্রি এবং টাকার মূল্যের রেকর্ড পতন শেয়ার বাজারের পতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। দিনশেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সেনসেক্স ১,০০০ পয়েন্টের বেশি এবং নিফটি ৫০ সূচক ৩৫০ পয়েন্টের বেশি ক্র্যাশ করে বন্ধ হয়। অন্যদিকে ঋণের কিস্তি বাড়ায় বাড়তে পারে ব্যাঙ্ক ও ডাকঘরের প্রথাগত বিনিয়োগের সুদ। ফলে স্টক মার্কেটে ইনভেস্ট করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন লগ্নিকারীদের একাংশ।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে বিশ্ব বাংলা সংবাদ কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)















